কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর মারণাস্ত্র প্রয়োগ করতে স্বয়ং শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে এক তথ্যচিত্রে দাবি করেছে বিবিসি।

শেখ হাসিনা ও পুত্র সজীব ওয়াজেদ
শেষ আপডেট: 11 July 2025 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর মারণাস্ত্র প্রয়োগ করতে স্বয়ং শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে এক তথ্যচিত্রে দাবি করেছে বিবিসি। আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ঘিরে তোলপাড় চলছে বাংলাদেশে।
এই ইস্যুতে তোলপাড় চলছে আওয়ামী লিগের অভ্যম্তরেও। তাহল, হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ খণ্ডনে দলের তরফে প্রচারিত বক্তব্য ঘিরে। গত বুধবার বিবিসি তথ্যচিত্রটি প্রচার করার পর আওয়ামী লিগ সরকারিভাবে প্রেস রিলিজ প্রকাশ করে অভিযোহ করে বিবিসি যে টেলিফোন কথপোকথকেন অডিও প্রচার করেছে সেটা বানানো এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে তৈরি। অর্থাৎ দল বিবিসির তথ্যচিত্রের অভিযোগরে ফৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনাচক্রে ওইদিনই শেখ হাসিনার মার্কিন প্রসাবী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুক পোস্টে মেনে নিয়েছেন বিবিসি প্রচারিত কণ্ঠস্বরটি তাঁর মায়ের। তবে সেটি ২০১৪-এর জুলাইয়ের নয়। সেটি ২০১৬-র। ওই বছর ১ জুলাই ঢাকার হোলি আর্টিসান কাফেতে জঙ্গি হামলা হয়েছিল। তাতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২২জন নিহত হন। জঙ্গিরা কাফের সকলকে বন্দি করে রেখেছিল। জয়ের দাবি ওই অপহৃতদের উদ্ধার করতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন। মহম্মদ ইউনুসের সরকার তখনকার কথপোকথনের টেপ ২০১৪-এর বলে বিবিসিকে দিয়েছে।
জয়ের এই পোস্ট নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয় আওয়ামী লিগ ভিন্ন বয়ান দেওয়ায়। দল দাবি করে সেটি হাসিনার আসল কণ্ঠস্বরই নয়। সেটি আসলে এআই দিয়ে তৈরি। স্বভাবতই জয়ের পোস্ট ঘিরে তুমুল বিবাদ শুরু হয়ে যায় দলের অন্দরেও। আওয়ামী লিগ বিরোধীরাও সদসবলে নেমে পড়ে হাসিনার দলের বিরুদ্ধে। দলীয় সূত্রের খবর, নেতাদের মারফত বিষয়টি শেখ হাসিনা পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর জয়ের পোস্টটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। স্বভাবতই বিরোধী শিবির তাতে আরও বড় অস্ত্র পেয়ে যায়। জয় অসত্য দাবি করেছিলেন বলে অনেকেই সমাজমাধ্যমে সরব হন।

যেমন সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন জয়ের টাইমলাইনি লিখেছেন, প্রথমত,
বিবিসি রিপোর্ট এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় স্বীকার করে নিল অডিওটা তার মা খুনি হাসিনার। দ্বিতীয়ত, হলি আর্টিজান এর লোকেশন মোহাম্মদপুর নয়, সেটা সে জানে না। তৃতীয়ত এই বুদ্ধিহীন লোকটাকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী বলে অনুসারীরা চতুর্থত ওয়াজেদ ভাই পোস্ট ডিলেট করে দিচ্ছেন। পঞ্চমত খেলা শেষ।
শুক্রবার একই ই্যসুতে জয়ের আরও একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। তাতে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মায়ের ফোনালাপের টেপ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বিবিসি-র হাতে তুলে দিয়েছে। যা আইন বিরুদ্ধে। কারণ, আদালতের সম্পত্তি বিচার ছাড়া অন্য কোনও প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েও জয় মেনে নিয়েছেন কণ্ঠস্বরটি তাঁর মায়ের।

প্রশ্ন উঠেছে কে ঠিক বলছেন? আওয়ামী লিগ তো কণ্ঠস্বরের সতত্যা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। সেখানে জয়ের বয়ানে দাবি করা হচ্ছে, কণ্ঠস্বরটি তাঁর মায়েই। প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লিগের সরকারি বক্তব্য কী? এই ব্যাপারে আওয়ামী লিগের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ কোনও নেতাই মন্তব্য করতে চাননি। তাঁরা বিষয়টি না জানার ভান করে এড়িয়ে গিয়েছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কেউ কেউ বলছেন, জয় আওয়ামী লিগের নেতা নন। তিনি দলনেত্রী পুত্র হিসাবে কিছু কথা বলেন।
বিবাদ এখানেই থামেনি। জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লিগের নামে যে বিবৃতিটি ইস্যু করা হয়েছিল সেটি শীর্ষ নেতাদের দেখানো হয়নি প্রচার করার আগে। হাসিনাকে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাকি শীর্ষ নেতারা বিবৃতিটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে পড়ে জানতে পারেন। তারপর সেটি দলের তরফে মেল করা হয়। জানা গিয়েছে, দলেরই একটি সংস্থা প্রেস রিলিজটি ইস্যু করে। তারাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক পেজটি দেখভাল করে। সেই সংস্থার মাথার গত বছর দেশছাড়ার পর আমেরিকায় থাকছেন। সেখান থেকেই তাঁদের নির্দেশ মতো কাজ করে দলের ওই গবেষণা সংস্থাটি।