বাংলাদেশ সরকারের মহিলা অফিসারদের 'স্যার' বলে সম্বোধন করা যাবে না। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের উপদেষ্টামণ্ডলী বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শেষ আপডেট: 11 July 2025 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ সরকারের মহিলা অফিসারদের 'স্যার' বলে সম্বোধন করা যাবে না। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের উপদেষ্টামণ্ডলী বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, নারী কর্মকর্তাদের আর স্যার নয়।
শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসনকালে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল ল, যাতে সরকারি কর্মকর্তারা তাকে 'স্যার' বলে সম্মোধন করেন। এই অভ্যাস পরে অন্যান্য উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয় এবং আজও অনেককে 'স্যার' বলা হয়ে থাকে-- যা নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক। অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দোশনাটি বাতিল করেছে।

প্রসঙ্গত, ভারতেও মহিলা আমলাদের অনেককে তাঁদের ইচ্ছানুসারে ম্যাডাম না বলে স্যার বলে সম্মোধন করা হয়ে থাকে।
সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনে শব্দটির আমদানি কীভাবে হয়েছিল? ব্রিটিশ ভারত থেকেই প্রশাসনিক পদাধিকারিকদের স্যার সম্মোধন করা হত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রশাসনে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন কোনও কোনও নারী কর্মকর্তা তাঁদেরও পুরুষ অফিসারের মতো স্যার সম্মোধন করতেন। তবে তা ছিল নিতান্ত ব্যাতিক্রম। বেশিরভাগকেই ম্যাডাম বলা হত। এখনও হয়। ভারতের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সহকর্মী ও আমলারা ম্যাডাম বা মহাশয়া বলে সম্মোধন করতেন।
ব্রিটেনে ‘স্যার’ শব্দের জন্ম, ফরাসি ‘সিউর’ কথাটি থেকে। মূলত জমির মালিক, সম্ভ্রান্ত আর সম্মানিত মানুষের জন্যই শব্দটি চালু ছিল। যার আর একটি অর্থ ছিল ‘লর্ড’। যে কথাটি আদালতে চালু। আছে যদিও ব্যতিগতভাবে অনেক বিচারপতি তাঁদের লর্ড বলে সম্মোধন নাম করতে বলেছেন।
ফরাসিরা অবশ্য সিউর শব্দটি বেশিদিন ব্যবহার করেনি। তারা ‘মিসিয়া’ বা মঁশিয়ে শব্দটি ব্যবহার করা শুরু করে। ভাষাবিদেরা মনে করেন তা থেকে ‘মশাই’ বা ‘মহাশয়’ শব্দটি এসেছে। বাংলাদেশ জনাব শব্দটির ব্যবহার বেশি। পশ্চিমবঙ্গেও মুসলিম সমাজের একাংশ জনাব কথাটি ব্যবহার করেন।
স্যার শব্দের নারীবাচক শব্দ হিসাবে একটা সময় ‘জনাবা’ ব্যবহারের চল ছিল। তবে ইংরিজি স্যারের কোনও নারী বাচক শব্দ নেই।