ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সাবেক আইজিপি গত বছর জুলাই অগস্টে কোটা বিরোধী আন্দোলন দমনে পুলিশকে কী ধরনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তা আদালতে তুলে ধরতে পারেন।

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন
শেষ আপডেট: 10 July 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (ex PM Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী (crimes against humanity) অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আগামী ৩ অগস্ট থেকে শুনানি শুরু হবে। বৃহস্পতিবার ওই মামলায় হাসিনা সহ তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্ত হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (ex home minister of Bangladesh Asaduzzaman Khan Kamal) এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন (former IGP of Bangladesh Chowdhury Abdullah Al Mamun)।
হাসিনা সহ তিন জনের বিরুদ্ধে খুন, খুনের নির্দেশ প্রদান, গুম, গুম খুন, অপহরণের মানবতা বিরোধী অপরাধের ধারায় বৃহস্পতিবার চার্জ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তবে চার্জ গঠনকে ছাপিয়ে চর্চায় এসেছে তৃতীয় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের সিদ্ধান্ত। তিনি বর্তমানে কারাবন্দি। বৃহস্পতিবার তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের এক নম্বর আদালতে চলছে হাসিনার মামলা। ওই আদালতের বিচারপতি তথা ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তূজা মজুমদারের বেঞ্চের কাছে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি আইজিপি থাকার সময় পুলিশ অনেক মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। ট্রাইব্যুনালের কাছে তিনি সব কথা খুলে বলতে চান।
এরপরই তাঁর আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির কাছে আবদুল্লাহ আল মামুনের নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি জানান। রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁর উপর আক্রমণ হতে পারে, আশঙ্কা প্রকাশ করেন মামুনের আইনজীবী। ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এই ব্যাপারে কোনও রায় না দিলেও আদালত থেকে কারাগারে ফেরানোর সময় মামুনকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয় পুলিশ।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সাবেক আইজিপি গত বছর জুলাই অগস্টে কোটা বিরোধী আন্দোলন দমনে পুলিশকে কী ধরনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তা আদালতে তুলে ধরতে পারেন। রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁকে লঘু দণ্ড দেওয়া হতে পারে।
বুধবারই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এক রিপোর্টে দাবি করেছে, গত বছর ১৮ জুলাই স্বয়ং শেখ হাসিনা এক নিরাপত্তা আধিকারিককে নির্দেশ দেন আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে।