বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নয়া প্রিকোয়ালিফিকেশনে পোলিও দমন আরও সহজ হবে। ভারতীয় সংস্থার উৎপাদিত নতুন nOPV2 টিকা বিশ্বব্যাপী সরবরাহে বড় ভূমিকা নেবে।

পোলিও
শেষ আপডেট: 13 February 2026 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব পোলিও দমন অভিযানে বড় অগ্রগতি। নতুন ধরনের নোভেল ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন টাইপ–২ বা এন–ওপিভি–২ (nOPV2)-কে প্রিকোয়ালিফাই করল WHO। এর ফলে এখন থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে ইউনিসেফ (UNICEF), সারা দুনিয়ায় এই টিকা কেনা ও বিতরণ করতে পারবে। নিরাপত্তা, গুণমান আর কার্যকারিতার কঠোর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই কোনও টিকা এই তালিকাভুক্তির যোগ্য হয়।
দীর্ঘদিন ধরে পোলিও দমনে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। একসময় যে রোগ বছরে লক্ষাধিক শিশুকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করত, টিকাকরণের জোরে তা এখন প্রায় নির্মূলের মুখে। তবু গ্যাপ রয়ে যাচ্ছে নিম্ন-টিকাকরণ থাকা এলাকায়। বিশেষ করে ভ্যাকসিন-উদ্ভূত পোলিও ভাইরাস টাইপ–২ (cVDPV2) মাঝে মাঝেই নতুন করে মাথা তোলে। পুরোনো টিকার দুর্বল ভাইরাস কখনও কখনও রূপ বদলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এই পরিস্থিতির জন্যই তৈরি হয়েছিল এন–ওপিভি–২ আরও জিনগতভাবে স্থিতিশীল, আরও নিরাপদ।
এখন সেই নয়া ভ্যাকসিন তৈরি করছে হায়দরাবাদ–ভিত্তিক ভারতীয় সংস্থা বায়োলজিক্যাল ই লিমিটেড (Biological E Limited)। আগে কেবল ইন্দোনেশিয়ার এক নির্মাতার উপর নির্ভর করতে হত। ফলে সরবরাহে চাপ পড়ত। এবার অতিরিক্ত উৎস তৈরি হওয়ায় সাপ্লাই চেন আরও শক্ত হবে। বিশ্বব্যাপী হঠাৎ কোনও প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
nOPV2 কেন এত জরুরি?
পুরনো মনোভ্যালেন্ট টাইপ–২ টিকার তুলনায় এন–ওপিভি–২ অনেক বেশি জিনগত স্থিতিশীল। ফলে টিকার ভাইরাস নিজে থেকে রূপ বদলে নতুন প্রাদুর্ভাব তৈরির ঝুঁকি অনেক কম। WHO-র মন্তব্য, এই টিকার শেল্ফ লাইফ ২৪ মাস পর্যন্ত এবং সাধারণ ভ্যাকসিন তাপমাত্রাতেই রাখা যায়। তাই দূরদূরান্তের গ্রাম থেকে শহরের বড় ক্যাম্প, সব জায়গাতেই সহজ ব্যবহারযোগ্য।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত (India) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টিকাকরণ কর্মসূচি চালায়। ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন তার ভিত্তি। ২০১৪ সালে পোলিও–মুক্ত সার্টিফিকেশন পাওয়া সত্ত্বেও, যে কোনও সময় বাইরের সংক্রমণ বা কভারেজ কমে গেলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আরও উন্নত, নিরাপদ টিকা পাওয়া ভারতের জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে আরও পোক্ত করবে। একই সঙ্গে ভারত যেহেতু বড় টিকা–উৎপাদনকারী দেশ, বিশ্ববাজারে নতুন nOPV2 সরবরাহে তার ভূমিকা আরও বাড়ল।
WHO-র মহাপরিচালক টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসুস (Tedros Adhanom Ghebreyesus) সম্প্রতি জানিয়েছেন, 'টিকাই আমাদের পোলিও নির্মূলের আরও কাছে নিয়ে এসেছে।' তাঁর মতে, উচ্চ কভারেজ, শক্ত নজরদারি আর দ্রুত প্রতিরোধই চূড়ান্ত সাফল্যের চাবিকাঠি।
নতুন এন–ওপিভি–২ প্রিকোয়ালিফিকেশন সেই দৌড়ে বড় জ্বালানি। আরও নিরাপদ, আরও স্থিতিশীল টিকা বিশ্বকে পোলিও–মুক্ত করার লড়াইয়ে নতুন গতি আনবে— বিশেষত ভারতের মতো দেশকে, যার কাঁধেই বিশ্ব টিকানিরাপত্তার বড় অংশ।