গাইনি ক্যানসার নিয়ে ভয় নয়, রোবোটিক সার্জারি এখন দ্রুত, নিরাপদ ও কম ব্যথায় সুস্থ হওয়ার নতুন ভরসা।আধুনিক এই প্রযুক্তি বদলে দিতে পারে রোগীর পুরো জীবন।

ডক্টর রূপশ্রী দাশগুপ্ত (গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস)
শেষ আপডেট: 4 February 2026 19:11
অ্যাডলসেন্স, রিপ্রোডাক্টিভ ইয়ারস ও পেরি মেনোপজাল সঙ্গে মেনোপজ এই তিনটে মূল ধাপে মহিলাদের জীবন ভাগ করা থাকে। এর যে কোনও ক্ষেত্রেই যদি অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে, যেকোনও বয়সে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কী কী উপসর্গ দেখা দিলেই সতর্ক হবেন?
জীবনযাপনে পরিবর্তনের জন্য বিশেষ করে এই সময়ে একাধিক পরিবর্তনের জন্য গাইনোকলিক্যাল সমস্যা হতেই পারে। সেগুলো ফেলে রাখা যায় না। বয়স বাড়তে থাকলে ক্যানসারের দিকে এগোলেও এগোতে পারে। টিউমার থাকলে সেটা দেখে নিতে হয়। ভয় না পেয়ে, এড়িয়ে না গিয়ে রোগ চিহ্নিত করতে হবে।
ভয় নয়, চিকিৎসা প্রয়োজন
শরীরে কিছু হল মানেই অপারেশন নয়। ছোট ফাইব্রয়েড আছে, উপসর্গ নেই, কেন অপারেশন করব। আমরা বুঝতে পারি পরীক্ষা করে, দেখে নিই কীভাবে চিকিৎসা করলে রোগী ভাল থাকবে, সেটাই সবসময় করি। সবার একই ভাবে চিকিৎসা করা হয় না। রোগীর সঙ্গে আগে কথা বলি আমরা, তারপরই কাজ করি।
ভয় কাটানো যায় কাউন্সেলিংয়ে
অপারেশনের প্রয়োজন হয় অনেক সময়। দরকার হতেই পারে আর সেটা নিয়ে অনেকের ভয়ও থাকে কিন্তু অপারেশন মানেই ভয় পাওয়া নয়, এটা আমরা শিখি। আমাদের শেখানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা ভাল, কারও ধরুন ক্যানসার হয়েছে আমরা পরীক্ষা করে বুঝতে পারলাম। তাকে খুবই ভাল করে ঠান্ডা মাথায় বোঝাতে হয়। প্রথমেই বলা হয় না, আপনার ক্যানসার আছে। ধাপে ধাপে বলা হয়। রোগীকে সময় দিতে হয়। পাশে থাকার বার্তা দিতে হয়। কাউন্সেলিং করার ক্ষমতা চিকিৎসকের মধ্যে থাকে, অপারেশন নিয়েও সেভাবেই এগোতে হয়।
আর শুধু রোগী নয়, তার পরিবারকেও সমানভাবে বোঝানো হয়। দেওয়া হয় সাপোর্ট, যাতে তারা ভেঙে না পড়েন ও রোগীকে সুস্থ হতে সাহায্য করতে পারেন।
গাইনি অঙ্কোলজি
আমাদের দেশে অনেকে ভাবেন ব্রেস্টে কিছু হল, ক্যানসার হতে পারে, মানেই সেটা গাইনি দেখবেন। যেহেতু ফিমেল অরগ্যান তাই গাইনি। কিন্তু এটা খুব একটা সঠিক ধারণা নয়, ব্রেস্ট মানেই গাইনি দেখাব না। এর জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা করে থাকেন ব্রেস্ট সার্জেনরা। তাই ক্যানসার সেন্টারে গেলে তারা ভাল করে বুঝিয়ে দিতে পারবে।
যেমন ইউট্রাসে দুরকমের ক্যানসার হতে পারে। একটা জরায়ুর ভিতরে আর একটা নীচে। ইউট্রাসে ফাইব্রয়েড হয়, তা থেকে সার্কোমা হতে পারে, ভ্যাজাইনা ভালভাতে টিউমার বা ক্যানসার হতে পারে, যেখান থেকে বাচ্চা হয়। আর ওভারিয়ান ক্যানসার হতে পারে। ওই পুরোটা গাইনি অনকো-র। চিকিৎসা নির্ভর করে কোথা থেকে ক্যানসার ছড়িয়েছে তার ওপর। ক্যানসার সবসময় সূত্র থেকে চিকিৎসা হয়।
রোবোটিক সার্জারি, কেমন হয়?
৯০ দশকে ল্যাপ্রোস্কোপি শুরু হয়। একটা পেট কেটে করতে পারি, ওপেন আর ল্যাপ্রোস্কোপি, পরে আসে, ছোট ফুটো দিয়ে করা হয়। নব্বইয়ের দশক থেকে সেটা সারা ফেলল। এবার আমরা তো নিজেদের উন্নত করার চেষ্টা করি। সেই সূত্রেই রোবোটিকস আসে। প্রথমে মিলিটারিতে এই রোবোট আসে, ল্যাপ্রোস্কোপি আরও ভাল করার জন্য আসলে এটা আনা হয়েছিল। মানুষের দুটো হাত থাকে, রোবোটের ৪টে। এবার ৪টে তো বেশি ভাল কাজ করবেই। আমিও ভাল করে কাজ করতে পারছি।
রোবোট হেঁটে আসছে, কাজ করছে, নিজে নিজে করছে এমন না। ওকে কন্ট্রোল করা হয়। অনেকে ভাবেন, রোবোট যদি খারাপ হয়ে যায়! এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, রোবোট ওই ভাবে খারাপ হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল রোবোট ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে এটা নতুন কিন্তু ২০-২৫ বছর ধরে এটা কাজ করছে।
কম ব্যথা, দ্রুত সুস্থ হওয়া- এই সবকিছুর জন্য রোবোটিক সার্জারি ভাল। তবে, যেকোনও সার্জারির ক্ষেত্রে রোবোটকে শেখাতে হয়। ট্রেনিং দিতে হয়। শিখতে হয়। প্র্যাকটিস করে করে শেষে মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোবোটে কাজ করা যায় না কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করা যায়। সেটা পরীক্ষা করে বোঝা যায়। সবক্ষেত্রেই উপসর্গ হলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কীসে কী হবে, সেটা যত দ্রুত বোঝা যাবে, তত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।