দীর্ঘ উড়ান বা শিফট ডিউটির পর জেট ল্যাগে ভোগেন? জাপানের গবেষণায় Mic-628 নামের নতুন ওষুধ শরীরের বডি ক্লক দ্রুত রিসেট করতে পারে বলে দাবি। তবে মানবদেহে ট্রায়াল এখনও বাকি।

আসছে জেট ল্যাগ কাটানোর ওষুধ
শেষ আপডেট: 12 February 2026 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ পথের উড়ান (Long Flight) কিংবা শিফ্টিং জব (Shifting Job) করেন যাঁরা তাঁদের প্রায়শই দিন রাতে সঠিক সময়ে ঘুম আসে না। বিশেষত অন্যদেশে কিছু দিন কাটিয়ে আবার যখন এদেশের টাইমে মানিয়ে নিতে হয় তখনই শরীরে অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বিগড়ে যায়। সেখানেই জন্মায় জেট ল্যাগ- নিদ্রাহীনতা, সারাদিন ক্লান্তি (fatigue), মাথাব্যথা (headache), মুড সুইং (Mood Swing)-এর অনুভূতিগুলো।
তবে আশার কথা, সম্প্রতি জাপানের কানাজাওয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, জেট ল্যাগ কাটিয়ে তোলার একটি ওষুধ তাঁরা তৈরী করেছেন ।
গবেষণায় জানা গেছে, একটি নতুন ওষুধ মিক-৬২৮ (Mic-628) শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে দ্রুত ‘রিসেট’ করতে সক্ষম। এটা শরীরের বডিক্লক ঠিক রাখতে সক্ষম জিন (Per1)- কে সক্রিয় করে, ফলে শরীর স্বাভাবিক সময়সূচির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধ প্রয়োগে মূষিকের শরীরের ঘড়ি চার দিনে সেট হয়ে গেছে স্বাভাবিক নিয়মে, যেখানে ওষুধ দেওয়া হয়নি এমন মূষিকের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল সাত দিন।
এই ওষুধটি শুধু মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় ঘড়িকে সেট করে দেয় না, বরং শরীরের প্রায় সব কোষ ও অঙ্গের ঘড়িকেও সমান তালে চলতে সাহায্য করে। সঙ্গে ঘুম আসা, জেগে ওঠা, হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকক্রিয়া এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
গবেষকরা মনে করছেন, যদি মানবদেহে এই ওষুধ নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে অনেক সমস্যা নিমেষে মিটে যাবে। দীর্ঘ সময়ধরে ফ্লাইটে ট্রাভেল করেন যাঁরা, রাতে কাজ করা কর্মী এবং যাদের সময়সূচির উলট-পালট থাকে তাঁদের জন্য অতিকার্যকর হবে এই ওষুধ।
জেট ল্যাগ (Jetlag) কী?
জেট ল্যাগ তখনই হয় যখন কেউ একাধিক টাইমজোনে ট্রাভেল করেন কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি নতুন সময় অনুযায়ী মানিয়ে নিতে পারে না। এর ফলে নিদ্রাহীনতা, ক্লান্তি, হজমের সমস্যা এবং মন স্থির না থাকার মতো সমস্যা তৈরি হয়।
এই ওষুধটি কি এখনই ব্যবহার করা যাবে?
না। মূষিকের শরীরের উপর পরীক্ষায় সফলতা মিলেছে। আশা করা যাচ্ছে মানবদেহেও সফল হবে। তবে আরও কিছু ট্রায়াল দরকার মানব শরীরে এই ওষুধের কার্ষকারিতা প্রমানিত হতে। বিজ্ঞানীরা পরবর্তী ধাপে মানবদেহে এই ওষুধের নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা পরিমাপ করবেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, জেট ল্যাগ সাধারণত অস্থায়ী। তবে কয়েকদিন বেশ কষ্টে কাটে কারণ ঘুমের বারোটা বাজে। ওষুধটি মানুষের প্রয়োজনে লাগবে তো বটেই। এছাড়াও এমন হলে কয়েকদিন ঘড়ি ধরে ঘুমানো, নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস, ঘুমের আগে মোবাইলের ব্যবহার বন্ধ রাখা, অতিরিক্ত আলোতে না থাকার অভ্যাস অনুসরণ করা উচিত। তাহলেই জেটল্যাগ কেটে যায় ধীরে ধীরে।