ওড়িশায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণ। পালিয়ে বাড়ির ফেরার পথে তুলে নিয়ে যায় অচেনা ব্যক্তি। সেও ধর্ষণ করে। দেহ উদ্ধার হয় তার বাড়ির নিচে থেকে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2026 09:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালবাসার মানুষকে বিশ্বাস করে ধর্ষিত হলেন ওড়িশার এক তরুণী। ২৩ বছরের ওই মেয়েটিকে প্রথমে ধর্ষণ করে তাঁর প্রেমিক। তারপর সাহায্য করার নামে ওইদিনই দ্বিতীবার ধর্ষণ করে আরেক ব্যক্তি। পরে একটি বাড়ির চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় এবং দেহ উদ্ধার হয় পরেরদিন। পুলিশ দুই অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না আগের, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওড়িশার জগৎসিংহপুরের ঘটনা। সেখানকার পুলিশ সুপার অঙ্কিত কুমার বর্মা (Ankit Kumar Verma) জানিয়েছেন, ২২ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তরুণী। প্রেমিক তাঁকে মন্দিরে ডেকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। সেই আশাতেই ঘর ছাড়েন। অভিযোগ, এরপর নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে তাকে ফেলে যায় রহমানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।
বিধ্বস্ত অবস্থায় যখন ওই স্ট্যান্ডে তিনি অপেক্ষা করছিলেন, তখন ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তি তাঁকে সাহায্য করার কথা বলেন। মোটরসাইকেলে করে ছেড়ে দিতে গিয়ে পারাদ্বীপ যাওয়ার পথে ধর্ষণ করেন। পরে ওই ব্যক্তিই তার ভাড়া বাড়ির ছাদ থেকে মেয়েটিকে নিচে ফেলে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে—অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে।
২৩ ফেব্রুয়ারি দেহ উদ্ধারের পর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’র মামলা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি পারাদ্বীপ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার ভাই। তার আগের সন্ধ্যায় তির্তোল থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছিল।
ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেডি (BJD) প্রধান ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ক (Naveen Patnaik)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘আর কত নিরীহ প্রাণ হারাবে? অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে থেকে প্রতিবন্ধী তরুণী—কেউ নিরাপদ নয়। আইনশৃঙ্খলা কি এখনও আছে? কানহারি, কুচিন্ডা, পারাদ্বীপ—একটার পর একটা ঘটনা উদ্বেগজনক।’
তিনি আরও বলেন, 'সরকারের দীর্ঘ বক্তৃতার পরও বাস্তব ভয়ঙ্কর। দিনের আলোতে আতঙ্কের পরিবেশ।' কঠোর উদাহরণমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহ পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে। ফরেনসিক ও অন্যান্য রিপোর্টের ভিত্তিতে চার্জশিট প্রস্তুত হবে।
এক দিনের ব্যবধানে দুই দফা নির্যাতন, শেষে খুন—এই ঘটনা ওড়িশায় নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।