কমিশনের তরফে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নারীর নিরাপত্তা, সম্মান এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক সুরক্ষার বিষয়ে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ঘটনায় জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে পুলিশ প্রশাসনকে।

অভিযুক্ত এসআই।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 21:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে মহিলা চিকিৎসকের আত্মহত্যা-কাণ্ডে (Female Doctor's Suicide , Maharashtra) নড়েচড়ে বসল জাতীয় মহিলা কমিশন (Women's Commission)। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করে রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে (DG) চিঠি পাঠাল (Notice) কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। নির্দেশ দিয়েছেন, পাঁচ দিনের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে হবে।
শুক্রবার কমিশনের তরফে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নারীর নিরাপত্তা, সম্মান এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক সুরক্ষার বিষয়ে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ঘটনায় জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে পুলিশ প্রশাসনকে।
সূত্রের খবর, মূল অভিযুক্ত সাব-ইনস্পেক্টরকে (এসআই) ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হলেও, তাঁর খোঁজ এখনও মেলেনি। রাজ্য পুলিশের এক কর্তা জানান, অভিযুক্তদের সন্ধানে তৎপর রয়েছে বিশেষ দল।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতারা জেলার ফলটনের একটি হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় মহিলা চিকিৎসকের ঝুলন্ত দেহ। তিনি ওই এলাকার মহকুমা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন। পুলিশের দাবি, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ হোটেলের তালাবদ্ধ ঘর খুলে দেহ উদ্ধার করা হয়।
এর পরেই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আত্মহত্যার আগে নিজের বাঁ হাতের তালুতে লিখে গিয়েছিলেন চিকিৎসক, কেন নিজেকে শেষ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবারের দাবি, সেটাই তাঁর ‘সুইসাইড নোট’। সেই নোটে লেখা ছিল, গত পাঁচ মাসে এক এসআই তাঁকে চার বার ধর্ষণ করেছে। আরও এক পুলিশকর্মী নিয়মিত মানসিক হেনস্থা করতেন।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীশের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআইকে সাসপেন্ড করা হয়। শুক্রবার সাতারার পুলিশ সুপার তুষার দোশী জানান, “চিকিৎসকের হাতের তালুতে দু’জনের নাম লেখা ছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের খুঁজছে, এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবারের অভিযোগ, মৃত চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপে কাজ করতে হচ্ছিল। তাঁর ভাইয়ের দাবি, “দিদিকে জোর করে মিথ্যা ময়নাতদন্ত এবং ফিটনেস রিপোর্ট বানাতে বাধ্য করা হত। পুলিশ ও নেতাদের চাপে ও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল।” তিনি জানান, এর বিরুদ্ধে দিদি ডিসিপির কাছে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একই দাবি তুলেছেন চিকিৎসকের কাকাও। তাঁর কথায়, “একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বদলানোর জন্য ওর উপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। সেই চাপ আসছিল পুলিশের ভিতর থেকেই।” মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশনের প্রধান রূপালী চাকঙ্কর বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সাতারা জেলা পুলিশকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ রেহাই পাবে না।”