Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্লI PAC-Vinesh Chandel: ভোর পর্যন্ত আদালতে শুনানি, ১০ দিনের ইডি হেফাজতে আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেই

ঘাসের পরত পিষে মেরেছে পাথুরে পলির স্তর! জলদাপাড়ায় ধুঁকছে হাতির দল, নিত্য উৎপাত লোকালয়ে

বন দফতরের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যদি না বদলায়, হাতির পথ ধরে গন্ডার ও বাইসনও লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। তাই শুরু হয়েছে জোরদার সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান।

ঘাসের পরত পিষে মেরেছে পাথুরে পলির স্তর! জলদাপাড়ায় ধুঁকছে হাতির দল, নিত্য উৎপাত লোকালয়ে

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 24 October 2025 15:29

সুমন বটব্যাল

একসময় ঘাসের সমাহারে সবুজে মুড়ে থাকা তৃণভূমি এখন ডলোমাইট মিশ্রিত পলির স্তূপ! দুর্যোগের পর তিন সপ্তাহ পেরিয়েও জলদাপাড়ার তৃণভূমিতে সবুজের ছোঁয়া নেই  (Food crisis in Jaldapara)। বনকর্তারা বলছেন, অন্তত আগামী তিন মাস পর্যন্ত নতুন ঘাস গজানো সম্ভব নয়। আর তার জেরেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কট। সেই সূত্রে মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাতের আশঙ্কাও (Human-Wildlife conflict)!

হাতি, গন্ডার, বাইসন— সবাই এখন ঘাসের খোঁজে হন্যে। বন দফতর সূত্রের খবর, জলদাপাড়ায় আছে প্রায় ২০০টি হাতি, ৩৩০টি গন্ডার এবং চার হাজারেরও বেশি বাইসন ও হরিণ। দুর্যোগে তাদের প্রধান খাদ্যভূমি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও এক ফুট, কোথাও দেড় ফুট পর্যন্ত পলি জমেছে। সেই পলির নীচে চাপা ঘাস আর গজাতে পারছে না।

এর ফলে, প্রাণী বেরোচ্ছে লোকালয়ে। প্রতিদিন রাতে মাদারিহাট, হাশিমারা, বানারহাট-সহ আশপাশের গ্রামে হাতির (Elephant) আনাগোনা। ফসল নষ্ট হচ্ছে, ভাঙচুর হচ্ছে, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। ক’দিন আগেই মাদারিহাটে দলছুট এক মাকনা হাতির হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মহিলা ও শিশু সহ তিনজন। পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

জলদাপাড়ার ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, “জলদাপাড়ার জঙ্গলে খাবার নেই। খাবারের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসছে বন্যপ্রাণ। জঙ্গলে নতুন ঘাস গজানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আগামী তিন মাস আমাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন সময়। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

দুর্যোগের আগে ও পরে তোলা তৃণভূমির ছবি বন দফতর বৃহস্পতিবার সরকারি ব্লগে প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এককালের সবুজ প্রান্তর এখন পাথুরে, ধূসর চরভূমির মতো। বনকর্তারা বলছেন, এই পলি আসলে নদীবাহিত ডলোমাইট মিশ্রিত বালিমাটি, যা ঘাসের জন্ম পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছে।

জলদাপাড়ার আশপাশে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান, ভুট্টা ও আনাজের ফসল। কিন্তু তৃণভূমি হারিয়ে হাতিরা এখন সেই ফসলের দিকে ঝুঁকছে। বনকর্মীরা জানাচ্ছেন, “একদল হাতি তাড়ালে অন্যদল বেরিয়ে পড়ছে।”

বন দফতরের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যদি না বদলায়, হাতির পথ ধরে গন্ডার ও বাইসনও লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। তাই শুরু হয়েছে জোরদার সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান। গ্রামের মানুষদের সতর্ক করা হচ্ছে- রাতে বাইরে বেরোবেন না এবং হাতির দলের গতিবিধি সঙ্গে সঙ্গে বন দফতরকে জানাতে হবে।

জলদাপাড়ার বনকর্তারা বলছেন, “সবুজ ফিরে আসবে, কিন্তু ততদিন পর্যন্ত মানুষ ও প্রাণী— দু’জনকেই ধৈর্য ধরতে হবে।”


```