সম্প্রতি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক ব্যক্তি। ২০২৩ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্ত্রী ও ছ'বছরের সন্তানকে খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দেয় জেলা আদালত। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই উচ্চ আদালতে যান স্বামী।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 May 2025 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানের দেখাশোনার জন্য চাকরি ছেড়েছিলেন মা, একটি মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) জানাল ওই মহিলা খোরপোষের (Alimony) অধিকারী। খোরপোষের অঙ্ক নির্ধারণের সময় স্ত্রীর উপার্জন ক্ষমতা নয়, আর্থিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে।
সম্প্রতি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক ব্যক্তি। ২০২৩ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্ত্রী ও ছ'বছরের সন্তানকে খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দেয় জেলা আদালত। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই উচ্চ আদালতে যান স্বামী। মামলাকারীর দাবি, তিনি মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা উপার্জন করেন। যেখানে তাঁর স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত এবং ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতেন। পরবর্তীকালে তাঁর স্ত্রী চাকরি ছেড়ে দেন।
আবেদনকারী যুক্তি দিয়েছিলেন যেহেতু তাঁর স্ত্রী উপার্জন করতে সক্ষম তাই তাঁর খোরপোষের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তিনি যে জেলা আদালতের নির্দেশ মানতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন সেকথাও উল্লেখ করেছেন।
২০১৬ সালে দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। ২০১৭ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকছিলেন। স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন স্ত্রী। অন্যদিকে ওই ব্যক্তি নিজের স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে থাকার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।
মহিলার আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। পেশার বাইরেও তাঁর আয় হয়। সন্তানের দেখাশোনার জন্য এই মুহূর্তে চাকরি ছেড়ে বাড়িতেই রয়েছেন তাঁর মক্কেল। মহিলার কথায়, বাড়ির কাছে চাকরি পাচ্ছিলেন না। সিঙ্গেল পেরেন্ট হওয়ায় সন্তানের জন্যই শিক্ষকতার চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
আদালত মহিলার যুক্তিকে গুরুত্ব দেয়। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) একটি রায় উল্লেখ করে বিচারপতি খোরপোষের (Alimony) নির্দেশ দেন। মহিলা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েননি, পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়েছেন, তাই তাঁদের সন্তান ও প্রাক্তন স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে ওই ব্যক্তিকে। আদালত মামলাকারীকে প্রতিমাসে স্ত্রীকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং সন্তানকে সাড়ে চার হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।