পুলিশি নথি অনুযায়ী, গত ২৩ নভেম্বর আত্তিবেলে থানায় এফআইআর দায়ের হয়। মৃত্যুর আগে দেওয়া বিদ্যার বয়ানেই উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগের বিবরণ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৮ মে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরের হাতে অপমান, অযত্ন ও নির্যাতনের শিকার হন।

মৃত মহিলা - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 November 2025 22:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করুণ পরিণতি। কর্নাটকের (Karnataka) আত্তিবেলেতে পারদের বিষক্রিয়ায় (Mercury) আক্রান্ত এক মহিলার মৃত্যু (Woman Death) হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ মৃত্যুর আগে ওই মহিলা জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পারদ ঢুকিয়েছিল শরীরে! অর্থাৎ তাঁকে খুন করা হল।
বেঙ্গালুরু (Bengaluru) থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরের আত্তিবেলের বাসিন্দা বিদ্যা (Vidya) নামে ৩১ বছরের ওই মহিলা গত নয় মাস ধরে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই চালিয়েও শেষরক্ষা করতে পারলেন না। তাঁর অভিযোগের তির স্বামী (Husband) বসবরাজ এবং শ্বশুর মারিস্বামাচারীর দিকে।
পুলিশি নথি অনুযায়ী, গত ২৩ নভেম্বর আত্তিবেলে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। মৃত্যুর আগে দেওয়া বিদ্যার বয়ানেই উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগের বিবরণ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৮ মে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরের হাতে অপমান, অযত্ন ও নির্যাতনের শিকার হন। স্বামী নাকি তাঁকে নিয়মিত ‘পাগল’ (Mad) বলে কটূক্তি করতেন, বাড়ির মধ্যে আটকে রাখতেন, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতেও দিতেন না।
বিদ্যার দাবি, শিবরাত্রির (Shivratri) রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর পরদিন বিকেলে তাঁর জ্ঞান ফেরে! উঠেই ডান উরুতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। বুঝতে পারেন কেউ যেন সূচ (Injection) ফুটিয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আত্তিবেলে সরকারি হাসপাতালে যান তিনি। সেখান থেকে অক্সফোর্ড হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর রক্তে মারাত্মক মাত্রায় পারদ (Mercury) পান। অস্ত্রোপচারের পর নমুনা পরীক্ষাতেও সেই উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
মাসখানেক চিকিৎসার পর তাঁকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, পারদ ইতিমধ্যেই শরীর জুড়ে ছড়িয়ে একাধিক অঙ্গ, বিশেষত কিডনি (Kidney), কার্যত অচল করে দিয়েছে। তাঁকে ডায়ালিসিসে রাখা হয়, কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।
বিদ্যার অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুর ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পারদ দিয়ে হত্যার চেষ্টা (Attempt To Murder) করেছেন। মামলা রুজু হয়েছে, তদন্ত চলছে। দীর্ঘ নয় মাসের যন্ত্রণা শেষে নভেম্বরেই মৃত্যু হয় বিদ্যার। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট জোগাড় করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।