আকাশ ধূসর বা মেঘলা দেখাতে পারে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তেও পারে। মোটের উপর, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমায় আপাতত নজিরবিহীন সতর্কতা জারি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 November 2025 21:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ হাজারের বছরের (10 Thousand Years) ঘুম ভাঙল ২০২৫ সালে! হঠাৎ জেগে উঠল ইথিওপিয়ার (Ethiopia) দীর্ঘ নিদ্রিত আগ্নেয়গিরি (Volcano)। আফার অঞ্চলের হাইলি গুবি (Hayli Gubbi) আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ১০ হাজার বছর পর অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। আর এর জেরে বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও! দিল্লি (New Delhi) সহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের (North West India) বাতাস দূষিত (Air Pollution) হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ২৩ নভেম্বর ভোরে প্রথম বিস্ফোরণ ধরা পড়ে। এই বিস্ফোরণের জেরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ছাই ও সালফার-ডাই-অক্সাইডের ঘন স্তর উঠে গেছে আকাশে।
তুলুজ ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টারের পর্যবেক্ষণ বলছে, বাতাসের গতিপথে ভেসে ছাইয়ের মেঘ লোহিত সাগর (Red Sea) পেরিয়ে ইয়েমেন (Yemen) ও ওমানের (Oman) দিকে সরে গেছে। একাধিক দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে। আকাশপথের নিরাপত্তায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনও এলাকায় কোনও ভূকম্পনের (Earthquake) আভাস নেই। ফলে পরিস্থিতি বোঝার একমাত্র ভরসা মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণ।
এই অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব এখন ছড়িয়ে পড়ছে ভারতীয় আকাশপথেও (Indian Air)। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০–১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ভেসে থাকা ছাই সোমবার রাতেই গুজরাটে (Gujarat) ঢুকেছে। এরপর তা রাজস্থান, দিল্লি-এনসিআর (New Delhi NCR) ও পাঞ্জাবের (Punjab) দিকে এগোতে পারে। বিমান চলাচলে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ইতিমধ্যেই কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে উড়ান (International Flight) ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগো ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। মুম্বই বিমানবন্দর সূত্রে খবর, পাকিস্তান আকাশসীমা (Pakistan Air) ব্যবহার না করতে পারায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে আইএমডি জানিয়েছে, ছাই উচ্চস্তরে থাকায় স্থলভাগে দূষণ বা দৃশ্যমানতার বড় সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম। আকাশ ধূসর বা মেঘলা দেখাতে পারে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তেও পারে। মোটের উপর, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমায় আপাতত নজিরবিহীন সতর্কতা জারি।
এদিকে এমনিতেই বায়ুদূষণের জেরে দিল্লির অবস্থা খারাপ। সরকারি থেকে বেসরকারি - সব দফতরকেই জানানো হয়েছে, আপাতত অফিসে অর্ধেক কর্মীকে (Half Workers) দিয়ে কাজ করাতে হবে। বাকি কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন (Work From Home)। দূষণ কমানো ও রাস্তায় যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এই নির্দেশ জারি হয়েছে 'গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান' (GRAP)-এর তৃতীয় ধাপ বা গ্র্যাপ–৩ অনুযায়ী। রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলে বায়ুগুণমানের অবস্থা কোন স্তরে পৌঁছলে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নির্ধারণ করে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM)। সেই পর্যবেক্ষণেই পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে ওঠার আগে এই সীমিত উপস্থিতির নিয়ম মানা জরুরি।
সরকারের দাবি, অফিসে উপস্থিতি কমলে যানবাহনের সংখ্যা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে বিধিনিষেধ, ডাস্ট কন্ট্রোল এবং নিয়মিত মনিটরিং - এসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। দূষণ না কমলে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।