লন্ডনগামী বিমানটি উড়ানের কিছু পরই একটি মেডিক্যাল হোস্টেলে ভেঙে পড়েছিল। কয়েক মিনিট পরই ধ্বংসাবশেষ থেকে হাঁটতে হাঁটতেই বেরতে দেখা যায় রমেশকে। কিন্তু সেই মুহূর্ত যেন তাঁর জীবনে চিরস্থায়ী দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 November 2025 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেদাবাদে (Amedabad) ১২ জুনের ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় (Air India Crash) প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৪১ জন যাত্রী। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাস কুমার রমেশ (Viswas Kumar Ramesh)। কিন্তু ঘটনার চার মাস পরও তিনি 'স্বাভাবিক' হতে পারেননি। এখনও তাঁর চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
লন্ডনগামী বিমানটি উড়ানের কিছু পরই একটি মেডিক্যাল হোস্টেলে ভেঙে পড়েছিল। কয়েক মিনিট পরই ধ্বংসাবশেষ থেকে হাঁটতে হাঁটতেই বেরতে দেখা যায় রমেশকে। কিন্তু সেই মুহূর্ত যেন তাঁর জীবনে চিরস্থায়ী দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, আজও স্ত্রীর-ছেলের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না তাঁর, একাই নিঃশব্দে দিন কাটিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
''আমি বেঁচে আছি, এখনও বিশ্বাস হয় না,” বলেছেন রমেশ। এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার (Interview) দিয়ে জানিয়েছেন, ওই বিমান দুর্ঘটনা (Plane Accident) তাঁকে তাঁর ভাইয়ের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। বিশ্বাসের কথায় - আমার ভাই বড় সাপোর্ট ছিল। ওকে হারিয়ে ফেলব আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তাই আমার আর কিছু ভাল লাগে না।
দুর্ঘটনার শোক শুধু তাঁকে নয়, পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করেছে। চার মাস ধরে বাড়ির বাইরে নির্জনে বসে থাকেন তাঁর মা। রমেশের কথায়, “রাতে ঘুম আসে না, মাথা ভরে থাকে সেই ভয়। প্রতিদিন মনে হয় নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই করছি।” শরীরেও ক্রমাগত যন্ত্রণা - পা, কাঁধ, হাঁটু ও পিঠে ব্যথার জন্য স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও কষ্ট। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) রোগে আক্রান্ত। কিন্তু ভারতে চিকিৎসা করানোর পর ইংল্যান্ডে ফিরে কোনও ধারাবাহিক সাপোর্ট পাননি তিনি।
অভিযোগ উঠেছে যে, মানসিক ও আর্থিক সঙ্কটে থাকা রমেশের পরিবারকে যথেষ্ট সহায়তা করছে না এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)। এ বিষয়ে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সংস্থার পক্ষ থেকে পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং রমেশের প্রতিনিধিদের আগেই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আপাতত সংস্থা তাকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, যা আইনি পরামর্শকদের মতে তাঁর বর্তমান প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট।
বেঁচে যাওয়া যে সব সময় আশীর্বাদ নয়, তার যেন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ। স্ত্রী-সন্তান থেকেও নেই তাঁর জন্য। আজও তাঁর দিন কাটে নীরবতায়, স্মৃতির বোঝা বুকে নিয়ে।