গত জুন মাসে এই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। আর শুক্রবার দিল্লিতে এএআইবি–র কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের অসন্তোষ স্পষ্ট জানায় পাইলট সংগঠন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 October 2025 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেদাবাদের (Ahmedabad) এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার (Air India Crash) তদন্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হল। এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ALPA India) অভিযোগ করেছে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত দফতরের (AAIB) প্রকাশিত প্রাথমিক রিপোর্ট যথেষ্ট তাড়াহুড়ো করে তৈরি হয়েছে এবং এর ভাষা এমন যে তা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করছে।
গত জুন মাসে এই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। আর শুক্রবার দিল্লিতে এএআইবি–র কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের অসন্তোষ স্পষ্ট জানায় পাইলট সংগঠন।
ALPA–র প্রতিনিধি স্যাম থমাস বলেন, “সবাই একে অপরকে দায়ী করতে চাইছে। প্রচুর চাপের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আসল কাজ ছিল তথ্য তুলে ধরা, দায় চাপানো নয়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন রিপোর্টে কোনও স্বাক্ষর নেই। পাইলট সংগঠনের দাবি, রিপোর্টে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR)–এর অডিও উদ্ধৃত করার ধরন বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং তা নিয়ে অযথা জল্পনা ছড়াচ্ছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি ALPA–কে যুক্ত করার সুযোগ নেই বলে জানায় AAIB। তবে ভবিষ্যতে বিমান নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে মতামত নেওয়া হতে পারে।
রিপোর্টে কী বলা হয়েছিল
গত জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, আমেদাবাদ থেকে ওড়ার তিন সেকেন্ড পরেই এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমানের দুই ইঞ্জিনে জ্বালানির যোগান হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এক সেকেন্ডের মধ্যে দু’টি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ “রান” থেকে “কাট-অফ” অবস্থায় চলে যায়।
তবে রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়নি, ওই সুইচ বদল অনিচ্ছাকৃত ছিল, নাকি ইচ্ছে করে করা হয়েছিল। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে ধরা পড়া কথোপকথনও উল্লেখ করা হয় - যেখানে এক পাইলট অপরজনকে জিজ্ঞেস করেন কেন জ্বালানি কেটে দিলেন। অন্য পাইলট উত্তর দেন, তিনি দেননি।
প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই ALPA–র অভিযোগ, গোটা তদন্তের রূপরেখা এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে পাইলটদেরই দোষী বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দাবি, যথেষ্ট অভিজ্ঞ পাইলটরা ছিলেন ককপিটে।
দুর্ঘটনার সময় বিমানটি চালাচ্ছিলেন ৫৬ বছরের সুমিত সাবরওয়াল, যাঁর উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল ১৫ হাজার ৬৩৮ ঘণ্টা। তাঁর সহ-পাইলট ছিলেন ৩২ বছরের ক্লাইভ কুন্দর, যার মোট অভিজ্ঞতা ৩ হাজার ৪০৩ ঘণ্টা।
এদিকে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পাইলটের ‘ফুয়েল কাট-অফ’কে (fuel cut off) কেন্দ্র করে ওঠা জল্পনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর কাছে এই মর্মে একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) জবাবও চেয়েছিল, যেখানে স্বাধীন তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, অ্যাভিয়েশন সেফটি সংস্থা সেফটি ম্যাটার্স ফাউন্ডেশন একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে এবং নাগরিকদের জীবন, সমতা ও সত্য তথ্য জানার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করেছে।