সরকারের দাবি, অফিসে উপস্থিতি কমলে যানবাহনের সংখ্যা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে বিধিনিষেধ, ডাস্ট কন্ট্রোল এবং নিয়মিত মনিটরিং - এসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। দূষণ না কমলে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 November 2025 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ (Delhi Air Pollution) ফের বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছনোর জেরে কড়া পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ। সরকারি থেকে বেসরকারি - সব দফতরকেই জানানো হয়েছে, আপাতত অফিসে অর্ধেক কর্মীকে (Half Workers) দিয়ে কাজ করাতে হবে। বাকি কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন (Work From Home)। দূষণ কমানো ও রাস্তায় যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এই নির্দেশ জারি হয়েছে 'গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান' (GRAP)-এর তৃতীয় ধাপ বা গ্র্যাপ–৩ অনুযায়ী। রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলে বায়ুগুণমানের অবস্থা কোন স্তরে পৌঁছলে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নির্ধারণ করে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM)। সেই পর্যবেক্ষণেই পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে ওঠার আগে এই সীমিত উপস্থিতির নিয়ম মানা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে (Winter) তাপমাত্রা পতন, শিল্পাঞ্চল ও যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ এবং বাইরের রাজ্য থেকে আসা ধোঁয়া মিলেই দিল্লির বাতাস আরও বিষাক্ত (Air Pollution) হয়ে ওঠে। ফলে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, ফুসফুসের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থদের মধ্যে।
সরকারের দাবি, অফিসে উপস্থিতি কমলে যানবাহনের সংখ্যা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে বিধিনিষেধ, ডাস্ট কন্ট্রোল এবং নিয়মিত মনিটরিং - এসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। দূষণ না কমলে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
৪০১-এর বেশি একিউআই রেকর্ড হওয়ায় বর্তমানে রাজধানীতে GRAP-III বলবৎ হয়েছে। কিন্তু এবার GRAP-IV পর্যায়ের বেশ কিছু কড়া নিয়মও GRAP-III-এর আওতায় এনে পরিস্থিতি সামলাতে চায় কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এর পাশাপাশি একাধিক GRAP-পর্যায়েও বদল এনেছে কমিশন। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সরকারি দফতরে ‘স্ট্যাগার্ড টাইমিং’, যা এত দিন GRAP-III-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা নামিয়ে আনা হয়েছে GRAP-II-তে। অর্থাৎ AQI ৩০১–৪০০ হলেই লাগু হবে বদল। আবার পরিবহণ বাড়ানো ও দূষণ সংক্রান্ত পরামর্শ, যা এত দিন GRAP-II-এর অংশ ছিল, তা এখন GRAP-I-এ সরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে AQI ২০১–৩০০ হলেই শুরু হবে প্রাথমিক সতর্কতা।
উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, পাঞ্জাবে ১৬, হরিয়ানায় ১১ এবং উত্তরপ্রদেশে ১১৫টি জায়গায় ফসল পোড়ানো হচ্ছে। অতীতের থেকে সংখ্যাটি কম হলেও বাতাসের গতি উত্তরমুখী হওয়ায় তা ভেসে আসছে পার্শ্ববর্তী দিল্লি-এনসিআরের দিকে। ফলে গাড়ির দূষণের পাশাপাশি ধোঁয়ায় জর্জরিত দিল্লির বাসিন্দারা।
বায়ুদূষণের বাড়বাড়ন্ত দেখে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি সরকার নভেম্বর–ডিসেম্বরে নির্ধারিত সব স্কুল-কলেজের মাঠের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। রাজধানীর শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি আরও না-খারাপ করতে তাই আগেভাগেই সর্বোচ্চ সতর্কতার পথে হাঁটছে প্রশাসন।