প্রতিবাদীদের মধ্যে শহুরে নকশালরা ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বায়ুদূষণ নিয়ে বিক্ষোভের পরদিনও রাজধানীর বাতাসে বিষের পরিমাণ ছিল বিপজ্জনক স্তরে।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 10:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির ‘প্রাণঘাতী’ বায়ুদূষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত জনতা পুলিশের দিকে গোলমরিচ ও লঙ্কা গুঁড়ো স্প্রে করার ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রতিবাদীদের মধ্যে শহুরে নকশালরা ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিবাদীরা শীর্ষ মাওবাদী নেতা মাধবী হিদমার নামে পোস্টার নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁর নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ মাসের গোড়ার দিকেই অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল মাধবীর।
দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে রবিবারের ওই বিক্ষোভের সময় প্রতিবাদীদের তুলতে পুলিশ এলে তাঁদের দিকে বিক্ষোভকারীরা গোলমরিচ ও লঙ্কা গুঁড়োর স্প্রে ছিটিয়ে দেয়। তাতে বেশ কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হন। তখন পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সেখানে মাওবাদী নেতা ‘মাধবী হিদমা অমর রহে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেওয়ার কয়েক মিনিট আগেই এক যুবককে দেখা যায় একটি পোস্টার নিয়ে বসেছিলেন। তাতে লেখা ছিল, বিরসা মুন্ডা থেকে মাধবী হিদমা, জঙ্গল রক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার লড়াই চলবে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যাঁরা রবিবার মাওবাদী স্লোগান দিয়েছেন ও পোস্টার লিখেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের জঙ্গলে এক গুলির লড়াইয়ে মাওবাদী নেতা মাধবী হিদমার মৃত্যু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২৬টি সশস্ত্র হামলার অভিযোগ ছিল। ১৯৮১ সালে সুকমায় জন্ম হিদমা পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির নেতা এবং সেন্ট্রাল কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হয়েছিলেন। বস্তার অঞ্চল থেকে মাওবাদীদের শীর্ষ কমিটির একমাত্র আদিবাসী নেতা ছিলেন হিদমা। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ার মাওবাদী হামলার নেতৃত্বে ছিলেন এই নেতা। যে ঘটনায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৩ সালে ঝিরাম ঘাঁটিতে এক হামলায় শীর্ষ এক কংগ্রেস নেতা সহ ২৭ জনের মৃত্যুর দায় ছিল তাঁর উপর। এমনকী ২০২১ সালে সুকমা-বিজাপুর সংঘর্ষে তাঁর নেতৃত্বেই ২২ জন নিরাপত্তারক্ষী প্রাণ হারান।
বায়ুদূষণ নিয়ে বিক্ষোভের পরদিনও রাজধানীর বাতাসে বিষের পরিমাণ ছিল বিপজ্জনক স্তরে। দিল্লি-এনসিআরের অধিকাংশ এলাকাই একিউআই স্তর ছিল ৪০০-র উপরে। সোমবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বহু জায়গায় দৃশ্যমানতা নেমে এসেছিল। বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে ছিল রাজধানীর আকাশ।