আপাতত নতুন করছাড়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই, তবে নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব— বিবাহিত দম্পতিদের জন্য যৌথ করব্যবস্থা (Joint Taxation)।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, ব্যক্তিগত আয়করের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শেষ আপডেট: 20 January 2026 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে। গতবারের মতো বড়সড় করছাড় আসবে কি না— এই প্রশ্নেই চোখ সাধারণ করদাতার। যদিও আপাতত নতুন করছাড়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই, তবে নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব— বিবাহিত দম্পতিদের জন্য যৌথ করব্যবস্থা (Joint Taxation)। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, ব্যক্তিগত আয়করের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নীতিনির্ধারকদের মতে, দম্পতিকে একক ‘ইউনিট’ হিসেবে বিবেচনা করলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির আর্থিক স্বস্তি বাড়বে।
বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই আলাদা প্যান নম্বর ও আলাদা আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দিতে হয়। তাঁদের আয় আলাদা হোক বা না হোক। যৌথ করব্যবস্থা চালু হলে, দম্পতির সম্মিলিত আয় ধরে একটি মাত্র রিটার্ন দাখিল করা যাবে।
উদাহরণ হিসেবে প্রস্তাবিত কাঠামোয় বলা হচ্ছে—
৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত
৬ লক্ষ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ৫ শতাংশ কর
সরকারি সূত্রের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে—
একমাত্র উপার্জনকারী দম্পতিরা বেশি সুবিধা পাবেন
দ্বৈত আয়যুক্ত পরিবারও অনেক বেশি ন্যূনতম করছাড় ও স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুবিধা পেতে পারে
গৃহঋণ ও শিক্ষা ঋণের সুদে করছাড় যুক্ত হতে পারে
বর্তমানে ৫০ লক্ষ টাকা বেশি আয়ে যে সারচার্জ বসে, যৌথ করব্যবস্থায় সেই সীমা ৭৫ লক্ষ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
এই ব্যবস্থাটি ইচ্ছামূলক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আয়ের দম্পতিদের ক্ষেত্রে সম্মিলিত আয় বেশি হওয়ায় তাঁরা উল্টে উচ্চ কর স্ল্যাবে পড়ে যেতে পারেন। ফলে তাঁদের জন্য এই বিকল্প ততটা লাভজনক নাও হতে পারে।
এই প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রকের কাছে সুপারিশ করেছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। উল্লেখযোগ্যভাবে, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলিতে ইতিমধ্যেই যৌথ করব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বর্তমানে ভারতের কর-ব্যবস্থায় বিবাহিত ও অবিবাহিত নাগরিকের মধ্যে কোনও আলাদা সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে একজন সঙ্গীর আয় না থাকলেও তাঁর করমুক্ত সীমা অব্যবহৃতই থেকে যায়।
যদি বাজেট ২০২৬-এ এই প্রস্তাব ঘোষিত হয়, তবে তা ভারতের ব্যক্তিগত কর-ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী সংস্কার বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।