‘জন্মসূত্রে শত্রু’ ভারতীয় পোশাকশিল্পীদের বিশেষত তাঁদের মধ্যে একজন ‘বাঙালি’ হওয়ায় অভিজাত পরিবারের শাদিকে ঘিরে পাকিস্তানে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

শানজে আলি রোহেল বিয়ে করেছেন জুনেইদ সফদরকে (Junaid Safdar)।
শেষ আপডেট: 20 January 2026 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের (Pakistan politics) সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের এক জাঁকজমকপূর্ণ নিকাহকে ‘কবুল’ করল না দেশের মানুষ। ‘জন্মসূত্রে শত্রু’ ভারতীয় পোশাকশিল্পীদের বিশেষত তাঁদের মধ্যে একজন ‘বাঙালি’ হওয়ায় অভিজাত পরিবারের শাদিকে ঘিরে পাকিস্তানে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের (Nawaz Sharif) নাতবউ শানজে আলি রোহেল (Shanzay Ali Rohail) তাঁর মেহেন্দি ও মূল নিকাহ অনুষ্ঠানের জন্য ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনারদের পোশাক বাছাইয়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের মুখে পড়েছেন।
শাদির ছবি ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তানের (Pakistani social media) নেটদুনিয়ায় শুরু হয় নববধূর সাজপোশাক খুঁটিয়ে বিচার করার পালা। বিতর্কের কারণ ছিল না বিপুল বৈভব বা বিলাসিতা। বরং প্রশ্ন উঠেছে— এই পোশাকগুলি কোথা থেকে এসেছে। ভারতীয় ডিজাইনারদের (Indian fashion designers) পোশাক পরার সিদ্ধান্ত ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের (India Pakistan relations) পুরনো আদা-কাঁচকলার সম্পর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
শানজে আলি রোহেল বিয়ে করেছেন জুনেইদ সফদরকে (Junaid Safdar)। যিনি নওয়াজ শরিফের কন্যা তথা পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের (Maryam Nawaz) ছেলে। শানজে নিজেও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত রোহেল আসগরের (Rohail Asghar) নাতনি। আসগর নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুই দাদুর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সূত্রে শরিফ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও আসাযাওয়া ছিল শানজের।

লাহোরে (Lahore wedding) হওয়া এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের তাবড় রাজনৈতিক নেতা, পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠরা। দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় গোটা অনুষ্ঠান জুড়েই ছিল জনতার কৌতূহল।
শানজে আলি রোহেল শিরোনামে এসেছেন শুধু জাঁকজমকের জন্য নয়, তাঁর বিয়ের পোশাকের জন্য। মেহেন্দির অনুষ্ঠানে তিনি পরেছিলেন কলকাতার পোশাক শিল্পী সব্যসাচী মুখার্জির (Sabyasachi Mukherjee) ডিজাইন করা সবুজ লেহেঙ্গা। মূল বিয়ের দিনে তাঁর পছন্দ ছিল তরুণ তাহিলিয়ানির (Tarun Tahiliani) ডিজাইন করা লাল শাড়ি। এই দুই ভারতীয় ডিজাইনারের পোশাক বেছে নেওয়াই বিতর্কের মূল কারণ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন (India Pakistan cultural tension) দীর্ঘদিনের, ফলে অনেকেই বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখেননি।

এই বিতর্ক নিয়ে শানজে আলি রোহেল এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেননি। তিনি সব্যসাচী বা তরুণ তাহিলিয়ানি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কিছু বলেননি। তবে তাঁর সমর্থকেরা আগ বাড়িয়ে বলছেন, বিয়ের পোশাক একান্ত ব্যক্তিগত পছন্দ। তাঁদের যুক্তি, বহু দশক ধরেই দুই দেশের মধ্যে পোশাকের সংস্কৃতির আদানপ্রদান (cross border fashion) চলে আসছে।
পাকিস্তানের অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। সমালোচনার সুরে ভারত-বিরোধী জাতীয়তাবাদও (nationalism debate) উঠে এসেছে। একজন লিখেছেন, “খুবই সাধারণ। পাকিস্তানি ডিজাইনাররা আরও ভালো কিছু বানাতে পারতেন।” আরেকজনের মন্তব্য, “ভারতকে ট্যাক্স দেওয়া লজ্জার।” অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের নিজস্ব নামি ডিজাইনার থাকতে কেন ভারতীয়দের প্রতি এই টান। শানজের রাজনৈতিক পরিচয় বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
সবাই যে সমালোচনা করেছেন, তা নয়। অনেকে শানজের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার (personal choice) বিষয় বলে সমর্থন জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, “ভারতীয়রা পাকিস্তানি ডিজাইনারের পোশাক পরে, আবার উল্টোটাও হয়।” আরেকজনের মন্তব্য, “২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা কি এখনও বিয়ের পোশাক নিয়ে বিচার করব?” তাঁদের মতে, আধুনিক বিয়েতে বিশ্বজুড়ে ফ্যাশনের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক।
দক্ষিণ এশিয়ার ধনী পরিবারগুলির বিয়েতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ডিজাইনারদের পোশাক পরা এখন খুব সাধারণ বিষয়। সব্যসাচী মুখার্জি ও তরুণ তাহিলিয়ানি (Indian luxury bridal wear) তাঁদের নিখুঁত কারুকাজ ও বিলাসবহুল কাপড়ের জন্য জনপ্রিয়। তবে পাকিস্তানে (Pakistan cultural debate) এমন পোশাক অনেক সময় জাতীয় পরিচয় ও স্থানীয় শিল্পকে ঘিরে বড় বিতর্কের রূপ নেয়।