সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদব (Mulayam Singh Yadav)-এর সৎ-ছেলে প্রতীক যাদব (Prateek Yadav Divorce)-এর বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণায় ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল উত্তরপ্রদেশের যাদব পরিবার (Yadav Family)।

প্রতীক যাদব স্ত্রী অপর্ণার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। (বাঁদিকে)
শেষ আপডেট: 20 January 2026 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদব (Mulayam Singh Yadav)-এর সৎ-ছেলে প্রতীক যাদব (Prateek Yadav Divorce)-এর বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণায় ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল উত্তরপ্রদেশের যাদব পরিবার (Yadav Family)। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় (Instagram Post) এক আবেগঘন পোস্টে প্রতীক যাদব জানান, তিনি শীঘ্রই স্ত্রী অপর্ণা যাদবের (Aparna Yadav) সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন। অপর্ণাকে অখিলেশের সৎভাই ‘পরিবারের ভাঙনের কারণ’ (Family Destroyer) বলে উল্লেখ করেন, যা রাজনৈতিক ও পারিবারিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া পোস্টে প্রতীক যাদব স্ত্রী অপর্ণার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, অপর্ণা শুধুমাত্র ক্ষমতা ও প্রভাবের লোভে (Power and Influence) চলেছেন এবং পরিবারের সম্পর্ক ভাঙার জন্য দায়ী। তিনি লেখেন, অপর্ণা ‘স্বার্থপর’ (Selfish) এবং ‘অন্তর থেকে খারাপ’ (Bad Soul)। পোস্টে প্রতীক জানান, বর্তমানে তাঁর মানসিক অবস্থা ‘খুব খারাপ’ (Mental Health Crisis) এবং স্ত্রীর তাঁর প্রতি কোনও সহানুভূতি নেই। প্রতীকের কথায়, ওকে বিয়ে করাই আমার জীবনের দুর্ভাগ্য। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ১৪ বছরের দাম্পত্য শেষ করার ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত অপর্ণা যাদব (Aparna Yadav News) কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। জানা গিয়েছে, পোস্ট ভাইরাল হওয়ার সময় অপর্ণা চেন্নাইয়ে (Chennai Visit) ছিলেন, আর প্রতীক রয়েছেন বিদেশে। দুজনের কেউই তখন লখনউয়ের বিক্রমাদিত্য মার্গ (Vikramaditya Marg Residence)-এর বাসভবনে ছিলেন না।
অপর্ণা যাদব সমাজবাদী পার্টির টিকিটে ২০১৭ সালে লখনউ ক্যান্টনমেন্ট (Lucknow Cantonment Election) কেন্দ্র থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালে তাঁকে উত্তরপ্রদেশ মহিলা কমিশনের ভাইস-চেয়ারপার্সন (UP Women’s Commission Vice Chairperson) পদে নিয়োগ করা হয়।
প্রতীক ও অপর্ণার পরিচয় হয় ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে (Manchester University)। ২০১১ সালে তাঁদের বিয়ে হয় (Prateek Aparna Wedding 2011)। তাঁদের একটি ১২ বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। অপর্ণা হলেন প্রবীণ সাংবাদিক অরবিন্দ বিস্তের (Arvind Bisht Journalist) মেয়ে। যিনি সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, মুলায়ম সিং যাদব নয়ের দশকের শেষদিকে সাধনা গুপ্তকে (Sadhana Gupta) বিয়ে করেন। তখন তাঁর প্রথম স্ত্রী মালতি দেবী (Malti Devi), অখিলেশ যাদবের মা জীবিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুলায়মের সঙ্গে পরিচয়ের সময় সাধনাও বিবাহিত ছিলেন বলে জানা যায়।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) ব্যক্তিগতভাবে প্রতীকের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন না। তবে বিস্ত পরিবার যেভাবে মুলায়মকে ‘প্রভাবিত’ (Manipulated Mulayam) করেছিল— তা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ ছিল। এক সূত্রের দাবি, অখিলেশ বিস্ত পরিবারকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মুলায়মের চাপেই তাঁকে অরবিন্দ বিস্তকে তথ্য কমিশনার (Information Commissioner) করতে হয়েছিল।
সব মিলিয়ে অখিলেশের সৎ ভাইয়ের এই বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন নয়, এটি যাদব পরিবারের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, সমাজবাদী পার্টি বনাম বিজেপির (SP vs BJP) রাজনীতি এবং উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতেও (UP Political Dynamics) নতুন মাত্রা যোগ করেছে।