ভাইরাল হওয়া একটি ‘অশ্লীল’ ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই কর্নাটকের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (সিভিল রাইটস এনফোর্সমেন্ট) আইপিএস অফিসার (IPS) কে রামচন্দ্র রাওকে (K Ramachandra Rao) সাময়িক বরখাস্ত (Suspension Order) করল রাজ্য সরকার (Karnataka Government)।
.jpeg.webp)
তিনি সরকারি কর্মচারীর মর্যাদার পরিপন্থী আচরণ করেছেন এবং এতে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
শেষ আপডেট: 20 January 2026 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাল হওয়া একটি ‘অশ্লীল’ ভিডিও (Viral Obscene Video) ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই কর্নাটকের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (সিভিল রাইটস এনফোর্সমেন্ট) আইপিএস অফিসার (IPS) কে রামচন্দ্র রাওকে (K Ramachandra Rao) সাময়িক বরখাস্ত (Suspension Order) করল রাজ্য সরকার (Karnataka Government)। সোমবার জারি করা বরখাস্তের নির্দেশে জানানো হয়েছে, ডিউটির সময় নিজের দফতরের ভিতরে মহিলাদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ (Compromising Act in Office) করে তিনি সরকারি কর্মচারীর মর্যাদার পরিপন্থী আচরণ করেছেন এবং এতে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
সরকারি নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রামচন্দ্র রাওয়ের আচরণ অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮-এর রুল-৩ (All India Services Conduct Rules 1968) লঙ্ঘন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে (Prima Facie Inquiry) সরকার জানিয়েছে যে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অবিলম্বে বরখাস্ত রাখা প্রয়োজন। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি রুল-৪, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৬৯ অনুযায়ী সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স (Subsistence Allowance) পাবেন। তবে এই সময় তিনি রাজ্য সরকারের লিখিত অনুমতি ছাড়া সদর দফতর ছাড়তে পারবেন না (Police Headquarters)।
এই ঘটনার জেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (CM Siddaramaiah)। সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। কেউ যত বড় পদেই থাকুক, তদন্ত হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। যদিও বর্ষীয়ান এই আইপিএস অফিসার (Senior IPS Officer) ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও সাজানো (Fabricated Video) বলে দাবি করেছেন। ভাইরাল হওয়া ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি তিনটি আলাদা ক্লিপ জুড়ে তৈরি বলে মনে করা হচ্ছে, যা মোবাইল ফোনে তাঁর দফতরের ভিতরেই গোপনে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ জি পরমেশ্বরের (Home Minister G Parameshwara) বাসভবনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমি হতবাক। ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ ভুয়ো। যারা মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। তবে ভিডিওটি তাঁর দফতরেই তোলা কি না— এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে তিনি জানান, আট বছর আগে তিনি বেলাগাভিতে (Belagavi Posting) কর্মরত ছিলেন। বেলাগাভির সঙ্গে ভিডিওটির কী সম্পর্ক— তা তিনি স্পষ্ট করেননি, যা স্বরাষ্ট্র দফতরকে (Home Department) আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে।

এটি প্রথমবার নয়। ১৯৯৩ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার (1993 Batch IPS) গত বছর বিতর্কে জড়ান, যখন তাঁর সৎ মেয়ে, কন্নড় অভিনেত্রী রানিয়া রাও (Actress Ranya Rao)-কে ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI Gold Smuggling Case) বেআইনি সোনা পাচারের মামলায় গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলে (Bengaluru Central Prison) রয়েছেন। সেই সময় তদন্তে রামচন্দ্র রাওয়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হলেও পরে তাঁকে ক্লিনচিট দেওয়া হয় (Clean Chit) এবং তাঁর পরই তিনি ডিজিপি, ডিসিআরই (DGP DCRE) পদে দায়িত্ব পান।
তবে, সরকারি দফতরের ভিতরে এমন অভিযোগ (Obscene Act in Government Office) প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে (Administrative Ethics) চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তের ফলাফলই ঠিক করবে, ভিডিওটি সত্য না ভুয়ো, আর এই কাণ্ডে কর্নাটক প্রশাসনের (Karnataka Administration) পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।