গত বছর নতুন কর জমানায় (New Tax Regime) বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা আয় পর্যন্ত করমুক্ত করার পর, এবার করদাতারা জানতে চাইছেন— এই ছাড় কি আরও বাড়বে?
.jpeg.webp)
আয়কর স্ল্যাবে কী বদল আসতে পারে? ঝুঁকি নিতে পারেন নির্মলা সীতারামন! ছবি এআই দিয়ে তৈরি।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: Budget Expectation 2026: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ (Union Budget 2026) দরজায় বেল বাজাচ্ছে। আর তার সঙ্গেই আয়কর নিয়ে নতুন করে আশা-আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছর নতুন কর জমানায় (New Tax Regime) বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা আয় পর্যন্ত করমুক্ত করার পর, এবার করদাতারা জানতে চাইছেন— এই ছাড় কি আরও বাড়বে? আয়কর স্ল্যাবে (Income Tax Slab) কী বদল আসতে পারে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পুরনো কর কাঠামোর জমানা (Old Tax Regime) কি ধাপে ধাপে তুলে দেওয়া হবে? এই সবকটি সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে চাকরিজীবী মধ্যবিত্তদের উপর।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (FM Nirmala Sitharaman) আগামী ১ ফেব্রুয়ারি টানা নবমবার বাজেট পেশ করবেন। এটি হবে তৃতীয় মোদী সরকারের (Modi 3.0 Government) তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট। গতবছর বাজেটে মধ্যবিত্তদের জন্য বড় স্বস্তি দিয়েছিল সরকার। নতুন কর কাঠামোয় ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় পুরোপুরি করমুক্ত করা হয়েছিল (Rs 12 Lakh Tax Free)। তারপর থেকেই এ বছরের বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
চাকরিজীবীদের (Salaried Taxpayers) একাংশ চাইছেন, পুরনো কর জমানায় (Old Tax Regime Benefits) ন্যূনতম ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হোক এবং সাধারণ ছাড় (Standard Deduction) আরও বাড়ুক। অন্যদিকে, নতুন কর কাঠামোয় থাকা করদাতারা চাইছেন আয়কর স্ল্যাব আরও ঢিলে হোক। বিশেষ করে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করের স্তরটি বার্ষিক ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তোলা হোক।
অনেক করদাতা আবার চাইছেন, কম করের হারের সুবিধা নিতে গিয়েও যেন জনপ্রিয় ছাড়গুলো বজায় থাকে। যেমন সেকশন ৮০সি (Section 80C), ৮০ডি (Section 80D) বা গৃহঋণের সুদে ছাড় (Home Loan Interest Deduction)। শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (LTCG Tax) কমানোর দাবিও জোরাল হয়েছে এ বছর।
প্রবীণ নাগরিকদের (Senior Citizens Tax Relief) আশা, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো, স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে বেশি ছাড় এবং ব্যাঙ্কে দীর্ঘমেয়াদি জমা ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের উপর কর ছাড় বাড়ানো। পেনশনভোগীদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের (ITR Filing Simplification) পদ্ধতি আরও সহজ করার দাবিও রয়েছে।
বাড়ি কেনার সঙ্গে যুক্ত করদাতারা চাইছেন, গৃহঋণের সুদের উপর সেকশন ২৪(বি) (Section 24b Deduction) অনুযায়ী যে ছাড় পাওয়া যায়, তা বাড়ানো হোক। বাড়ির দাম ও ইএমআই (Home Loan EMI) বেড়ে যাওয়ায় এই দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রথমবার বাড়ি কেনা এবং মহিলা ক্রেতাদের জন্য (Women Homebuyers) আলাদা কর ছাড় দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
মহিলা করদাতারা (Women Taxpayers) চাইছেন বেশি রিবেট, বিশেষ ছাড় এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগে বাড়তি সুবিধা, যাতে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ে।
সব আয়ের করদাতারাই চাইছেন সারচার্জ (Surcharge) ও সেস (Cess Burden) নিয়ে যুক্তিসংগত বদল। ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (Capital Gains Tax) নিয়ে পরিষ্কার নিয়ম এবং কম হার। এর পাশাপাশি করদাতাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হল ঝামেলামুক্ত নিষ্পত্তি। কম নোটিস, দ্রুত রিফান্ড (Refunds), আরও ভালো প্রি-ফিল্ড আইটিআর ডেটা— এই বিষয়গুলো বাজেট ২০২৬-এ গুরুত্ব পেতে পারে।
১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করার পর অনেকেই আশা করছেন, বাজেট ২০২৬-এ (Budget 2026 Expectations) নতুন কর কাঠামোয় এই সীমা ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে মধ্যবিত্তদের হাতে খরচের টাকা বাড়বে এবং বাজারে খরচও বাড়বে। যদিও সরকারের আর্থিক চাপ (Fiscal Constraints) এই সিদ্ধান্তের পথে বড় বাধা হতে পারে। তবু বাজেটে যদি এ নিয়ে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা হবে বড় চমক।
মধ্যবিত্ত করদাতারা (Middle Class Tax Relief) চাইছেন, মুদ্রাস্ফীতির (Inflation Impact) কথা মাথায় রেখে আয়কর স্ল্যাব নতুন করে সাজানো হোক। গত বছর কিছু বদল হলেও, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় আরও অদলাবদলি জরুরি বলে মত অনেকের। এছাড়া সেকশন ৮৭এ (Section 87A Rebate) নিয়ে প্রত্যাশা রয়েছে। নতুন জমানায় এই রিবেট ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছিল, যা ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখন জল্পনা চলছে, এই ছাড়ের সীমা আরও বাড়তে পারে কি না। এতে উচ্চ আয়ের চাকরিজীবীরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজেট ২০২৫–২৬-এ ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করা ছিল বহু বছরের মধ্যে মধ্যবিত্তদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি। তাই বাজেট ২০২৬ নিয়ে প্রত্যাশাও তুঙ্গে। এখন দেখার, সরকার এই ছাড় আরও বাড়ায় কি না। নাকি কর কাঠামোকে আরও সহজ ও স্থিতিশীল করার পথেই হাঁটে। ১ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকিয়ে এখন করদাতাদের একটাই আশা— আরও স্বস্তি, কম ঝামেলা এবং হাতে বেশি টাকা।