AI কি চাকরি কেড়ে নেবে, নাকি তৈরি করবে নতুন সুযোগ? ভয় নয়, প্রস্তুতির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 February 2026 22:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence) যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চাকরিজীবীদের উদ্বেগ। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাঁটাই শুরু হয়েছে, ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন—AI কি ভবিষ্যতে মানুষের চাকরির জায়গা দখল করে নেবে? এই আশঙ্কার মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দিল্লিতে AI ইন্ডিয়া সামিট শুরুর আগে সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, AI নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবে এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিশাল সুযোগ।
মোদীর কথায়, ভয় পাওয়ার বদলে প্রস্তুত থাকাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি বলেন, চাকরির ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু নতুন সুযোগও তৈরি হবে। বিশেষ করে আইটি-সহ নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। তাঁর মতে, যুবসমাজকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তবেই তারা নতুন অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারবে।
AI-কে তিনি প্রযুক্তিগত বিবর্তনের স্বাভাবিক ধাপ হিসেবেই দেখছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একসময় লাঙল দিয়ে চাষ হতো, পরে ট্রাক্টর এসেছে—প্রযুক্তির এই পরিবর্তন যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, AI-ও তেমনই নতুন কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেবে। ইতিহাসের দিকে তাকালেই দেখা যায়, প্রযুক্তি কখনও শুধু চাকরি কেড়ে নেয়নি, বরং নতুন ধরনের কাজের জন্ম দিয়েছে।
AI নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এটিকে সমস্যা হিসেবে নয়, বরং প্রয়োজনীয় অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখা উচিত। শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, ভারত নিজেই নতুন প্রযুক্তি তৈরি করবে—এটাই আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য। তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি AI শক্তির মধ্যে জায়গা করে নেবে ভারত। আঞ্চলিক ভাষায় কোটি কোটি মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এবং এর ফলে তৈরি হবে অসংখ্য স্টার্টআপ ও কর্মসংস্থান।
তবে AI যতই উন্নত হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মানুষের হাতেই থাকবে বলে মনে করেন মোদী। তাঁর মতে, AI মানুষের ক্ষমতা বাড়াবে, বিকল্প হয়ে উঠবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও। ডিপফেক, ডিজিটাল প্রতারণা বা সন্ত্রাসে AI ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে দায়িত্ববোধও বাড়াতে হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস ও ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্সের কথাও উল্লেখ করেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপত্তিকর বা ক্ষতিকর AI কনটেন্ট তিন ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশু, মহিলা এবং প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।