সাহিলের মা ইন্না মাকান এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না, তাঁর ছেলেটি আর নেই। ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে থানা থেকে ফোন আসে তাঁর কাছে। জানানো হয়, তাঁর নামে নথিভুক্ত একটি মোটরবাইক এবং এক দেহ উদ্ধার হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 February 2026 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিছানার চাদর পরিপাটি করে চারপাশে গোঁজা। টেবিলে বইয়ের স্তূপ, পাশে ল্যাপটপ। দেওয়ালে ঝোলানো পদক আর ফ্রেমবন্দি ছবি। ছাদের দিকে তাকালে চোখে পড়ে বড় অক্ষরে লেখা - 2025 will be my year, “$1000,000 year!
এই ঘরটাই এখন সময়ের কাছে থমকে আছে। যেমন অবস্থায় রেখে গেছেন ২৩ বছরের সাহিল ধনেশরা (Sahil Dhaneshra Death), তেমনই রয়েছে সব কিছু। কিন্তু তিনি আর ফিরবেন না।
পশ্চিম দিল্লির দ্বারকা এলাকায় দ্রুতগতির একটি এসইউভির ধাক্কায় (Delhi SUV Accident Death) মৃত্যু হয়েছে সাহিলের। অভিযোগ, গাড়িটি চালাচ্ছিল ১৭ বছরের এক কিশোর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তরুণের।
সাহিলের মা ইন্না মাকান এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না, তাঁর ছেলেটি আর নেই। ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে থানা থেকে ফোন আসে তাঁর কাছে। জানানো হয়, তাঁর নামে নথিভুক্ত একটি মোটরবাইক এবং এক দেহ উদ্ধার হয়েছে।
ফোনের ওপার থেকে ছেলের চেহারার বর্ণনা শুনেই আঁচ পান ইন্না। দ্রুত গাড়ি নিয়ে পৌঁছন ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখেন, রাস্তায় পড়ে রয়েছে তাঁর ছেলে। স্পোর্টস বাইকটি তিন টুকরো হয়ে ছড়িয়ে।
ইন্নার দাবি, কাছেই অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও ছেলেকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তিনি চিৎকার শুরু করার পরই সাহিলকে হাত-পা ধরে তোলা হয়, ঘাড়ে কোনও সাপোর্ট না দিয়েই হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শেষ পর্যন্ত সাহিলকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে। সেখানেও চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ইসিজি করার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। এসইউভির ভিতর থেকে তোলা ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটছে। একটি বাসকে অল্পের জন্য এড়িয়ে গিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা সাহিলের বাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, সংঘর্ষের ঠিক আগে সাহিল বাসটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিলেন। ইন্নার দাবি, ভিডিওর শেষ অংশ কেটে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর বর্তমানে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার কারণে অন্তর্বর্তী জামিনে রয়েছে। গাড়িটির নামে আগে ১৩টি চালান কাটা হয়েছিল, যার মধ্যে ৯টি ছিল অতিরিক্ত গতির অভিযোগে। অভিযুক্তের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না বলেও অভিযোগ।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মৃত্যু হয়েছে সাহিলের। মাথার বাঁ দিকের খুলি ভাঙা ছিল, স্ক্যাল্পের নীচে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন মিলেছে। ফুসফুসে আঘাত ও মস্তিষ্কে ফোলা - অভ্যন্তরীণ ক্ষতি ছিল গুরুতর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই আঘাতগুলি সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাহিলের ঘরে এখনও ঝুলছে অসংখ্য পদক। টেবিলে রাখা স্বপ্নের পরিকল্পনা। কিন্তু দ্বারকার রাস্তায় সেই স্বপ্ন থেমে গিয়েছে এক মুহূর্তেই। এখন প্রশ্ন - সড়ক নিরাপত্তা, নাবালক চালক, আর দায়বদ্ধতা নিয়ে। আর এক মায়ের কাছে থেকে গেছে শুধু শূন্য ঘর আর অসমাপ্ত ২০২৫-এর লক্ষ্য।