আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেবল আলাদা থাকতে চাওয়ার ইচ্ছা নির্যাতন নয়, কিন্তু যদি বারবার চাপ সৃষ্টি করে স্বামীকে মা-বাবা বা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা করা হয়, তা হলে তা মানসিক নির্যাতন (Mental Torture) হিসেবে ধরা হবে।

দিল্লি হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 18 September 2025 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহিত জীবনে স্বামীকে তাঁর পরিবার থেকে আলাদা হতে জোর করা মানসিক নির্যাতনের সামিল (Wife Pressuring Husband To Cut Family Ties Amounts To Cruelty)। আর এই কারণেই ভেঙে যেতে পারে সংসার। এমনই রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেবল আলাদা থাকতে চাওয়ার ইচ্ছা নির্যাতন নয়, কিন্তু যদি বারবার চাপ সৃষ্টি করে স্বামীকে মা-বাবা বা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা করা হয়, তা হলে তা মানসিক নির্যাতন (Mental Torture) হিসেবে ধরা হবে।
বিচারপতি অনিল কশেতরপাল এবং হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ ১৬ সেপ্টেম্বর এই রায় দেন। তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টও এর আগে জানিয়েছিল, স্ত্রীর তরফে ক্রমাগত চেষ্টা যদি হয় স্বামীকে তাঁর বাবা-মায়ের থেকে আলাদা করার, তবে তা মানসিক নির্যাতন হিসেবে গণ্য হবে।
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট এক দম্পতির মামলায় পারিবারিক আদালতের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের রায় বহাল রাখে। আদালত জানায়, স্ত্রীর আবেদন খারিজ করা হচ্ছে, কারণ স্বামীর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ ছিল, স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি যৌথ পরিবারে থাকতে চান না। তিনি স্বামীকে জোর করছিলেন পরিবারভাগ করতে এবং বিধবা মা ও বিবাহবিচ্ছিন্ন বোনের থেকে আলাদা হয়ে থাকতে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর পক্ষ থেকে বারবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা এবং তার হুমকিও ছিল স্বামীর প্রতি নির্মম আচরণের উদাহরণ।
আদালতের মন্তব্য, দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো মতবিরোধকে সাধারণ ঘটনা ধরা যায়। কিন্তু ধারাবাহিক অপমান, চাপ সৃষ্টি, হুমকি দেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা— এ সব মিলিয়ে তা ‘সাধারণ দাম্পত্য কলহের সীমা ছাড়িয়ে যায়’। এগুলি এমন মাত্রার মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করে, যা সহ্য করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
এছাড়াও, স্বামী এবং তাঁর পরিবারের কাছে সন্তানের প্রবেশাধিকার অস্বীকার করাকেও আদালত মানসিক নির্যাতনের গুরুতর দিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শেষ পর্যন্ত, আদালতের মতে, স্বামী পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছেন যে স্ত্রীর আচরণ মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। তাই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের রায় বহাল রাখা হল।