আদালতের পর্যবেক্ষণ, কলেজের পরিচালন সমিতি আইন মেনে তৈরি হয়নি। ২০১৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, পরিচালন সমিতিতে নির্বাচিত তিনজন স্থায়ী শিক্ষক ও একজন অশিক্ষক কর্মচারীর থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি।

কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 21:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রানি বিড়লা গার্লস কলেজে (Rani Birla College) অধ্যক্ষা ও পরিচালন সমিতির সভাপতির মধ্যে টানাপোড়েনের জেরে তৈরি হল আইনি জটিলতা। কলেজের অধ্যক্ষা শ্রাবন্তী ভট্টাচার্যকে শোকজ নোটিস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ ও কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় (Kajari Banerjee)। সেই শোকজ ও পরে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক শুধু শোকজ ও সাসপেনশন নয়, কলেজের পরিচালন সমিতির গঠন এবং সভাপতির (কাজরীর) নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, কলেজের পরিচালন সমিতি আইন মেনে তৈরি হয়নি। ২০১৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, পরিচালন সমিতিতে নির্বাচিত তিনজন স্থায়ী শিক্ষক ও একজন অশিক্ষক কর্মচারীর থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি।
আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে কাজরীর পদ নিয়ে। আদালতের কথায়, কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি ‘শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত’ কেউ হতে হবে। কিন্তু কাজরী একজন কাউন্সিলর। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে কতটা যুক্ত, তার কোনও প্রমাণ আদালতে জমা পড়েনি। ফলে তাঁর নিয়োগ বৈধ কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে আদালত নজর দিয়েছে ৯ জুনের বিজ্ঞপ্তির দিকেও। সেই বিজ্ঞপ্তিতে ‘প্রস্তাবিত প্রেসিডেন্ট’ লেখা থাকায় আদালতের প্রশ্ন, তখনও কি কাজরী সভাপতির পদে নিযুক্তই হননি? তা হলে পরে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
উল্লেখ্য, কাজরী যখন পরিচালন সমিতির সভাপতি হন, তখন অধ্যক্ষা শ্রাবন্তী পরিচালন সমিতির (জিবি) নির্বাচন আয়োজনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, কাজরী এবং বাকি সদস্যেরা নির্বাচনের পথে না গিয়ে মনোনয়নের মাধ্যমেই জিবি গঠনের পরামর্শ দেন। সেখান থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
এখন আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশে আট সপ্তাহের জন্য শোকP ও সাসপেনশন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকছে। ছ’সপ্তাহ পর ফের শুনানি। তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আদালত। মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করেছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।