দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঘটল মর্মান্তিক পরিণতি! বিহারের নালন্দায় প্রেমিকার জন্য স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে।

শেষ আপডেট: 12 October 2025 08:06
দ্য ওয়াল ব্য়ুরো: স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ভয়াবহ পরিণতি হল বিহারের নালন্দা জেলায়। স্বামীকে রাজি করাতে না পারায় দ্বিতীয় স্ত্রী সুনীতা দেবীকে (২৫) নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামী বিকাশ কুমারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় সুনীতা দেবীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী বিকাশ কুমার এবং তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ নিহত সুনীতা দেবীর ভাইয়ের কাছে একটি ফোন আসে। কাঁপা কাঁপা গলায় সুনীতা জানান যে তাঁর স্বামী বিকাশ কুমার তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছে এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার খুলে ঘরে গ্যাস ছেড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সুনীতা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বলেন যে তিনি আর বাঁচবেন না। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়।
মেয়ের ফোন পেয়ে সুনীতার বাবা-মা দ্রুত তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ছুটে যান, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় সুনীতার। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, বিকাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা সুনীতার দগ্ধ দেহ মাটিতে কবর দেওয়ার চেষ্টা করছে। সুনীতার পরিবারের সদস্যদের আসতে দেখেই তারা পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে সুনীতা দেবীর সঙ্গে বিকাশ কুমারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুনীতা জানতে পারেন, বিকাশের আরও একটি বিয়ে রয়েছে এবং সে প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্সও দেয়নি। সেই সময় সুনীতা সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইলেও, বিকাশের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বুঝিয়ে আটকে দেন। এরপর তাঁদের দুটি সন্তানও হয়।
কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিকাশ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর প্রেমিকাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে আনতে চান। এই বিষয়ে স্ত্রীকে জানাতেই তুমুল অশান্তি হয়। অশান্তির জেরে সুনীতা বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান।
দুর্গাপূজার ঠিক আগে, বিকাশ কুমার সুনীতার বাপের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ভুল বোঝান এবং অনুরোধ করেন যে তিনি যেন বাড়ি ফিরে আসেন। স্বামীর আশ্বাসে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন সুনীতা, কিন্তু শনিবার রাতেই ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নালন্দা জেলা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুনীতার দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের পর যুবতীর দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত বিকাশ কুমার ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।