শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের একটি বিবৃতি শেয়ার করেছে রাজ্য পুলিশ। যেখানে লেখা, দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজের বাইরে জঙ্গল এলাকায় এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে।
.jpg.webp)
দুর্গাপুরকাণ্ডে পুলিশ
শেষ আপডেট: 11 October 2025 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশা থেকে পড়তে এসে দুর্গাপুরে গণধর্ষণের শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া (Odisha Crime Case)। এই ঘটনায় শোরগোল রাজ্যজুড়ে। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। এবার এই ঘটনায় মুখ খুলল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)। 'দোষীদের রেহাই দেওয়া হবে না, কঠোর শাস্তি পাবে', আশ্বস্ত করল তারা।
শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের একটি বিবৃতি শেয়ার করেছে রাজ্য পুলিশ। যেখানে লেখা, দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজের বাইরে জঙ্গল এলাকায় এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলছে। এই নৃশংস ঘটনায় যারা যুক্ত আছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গুজবে কান দেবেন না। নির্যাতিতার সুস্থতা ও পরিবারের নিরাপত্তার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নারীদের বিরুদ্ধে যেকোনও অত্যাচারে পুলিশ তাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে।'
We are deeply saddened by the late night sexual assault yesterday on a private medical College student , outside the college campus in Durgapur, and wish to assure all that the culprits shall not go unpunished. The pain of the victim is as much ours as it is Odisha's, and we… https://t.co/jRd160Tqou
— West Bengal Police (@WBPolice) October 11, 2025
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ' গতকাল রাতে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে জঙ্গল এলাকায় যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার ঘটনায় পুলিশ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ রেহাই পাবে না। নির্যাতিতার কষ্ট যতটা ওড়িশার ততটাই আমাদের।'
রাজ্য পুলিশের তরফেও গুজবে কান দিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহিলাদের সুরক্ষায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতেই অটল থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।
দুর্গাপুরকাণ্ডে উদ্বেগ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চিঠি লিখেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ((Odisha CM Mohan Charan Majhi) )। তিনি লিখেছেন, 'দুর্গাপুরে ওড়িশার এক কন্যার ওপর নির্মম অত্যাচারের খবর শুনে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন। দোষীদের দ্রুত কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।'
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে ওই ছাত্রী কলেজের হস্টেল থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, ফেরার পথে তাঁকে জোর করে একটি নির্জন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় (Durgapur Medical Student Assault)। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ৩ হাজার টাকা চায়। মেয়েটি টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধরও করা হয়। কিছু সময় পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বন্ধু তাঁকে উদ্ধার করে।
নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, 'রাত দশটার পর ফোন পেয়ে কলেজে পৌঁছাই। মেয়েকে ভয়ংকর অবস্থায় পাই। ওর শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল।' ঘটনার রাতে যেই বন্ধুর সঙ্গে তরুণী বেরিয়েছিলেন, তাঁকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে অন্তত পাঁচজন যুবক উপস্থিত ছিল। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ।
এই ঘটনায় পদক্ষেপ করেছে স্বাস্থ্য ভবন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেছেন নির্যাতিতার সঙ্গে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্ত জানিয়েছেন, “তদন্ত চলছে। নতুন তথ্য পুলিশের কাছে এলে তা জানানো হবে।” বিষয়টির সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে তদন্ত করছে পুলিশ।