দুর্গাপুরে এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনা প্রসঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বাংলায় পরপর এমন ঘটনায় রাজ্যের সম্মান দেশ-বিদেশে ভূ-লুণ্ঠিত হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 11 October 2025 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করের ঘটনার (RG Kar Case) পর কোনও দাঁড়ি পড়েনি। বরং রাজ্যের নারী নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনার খবর আরও বেড়েছে। এমনটাই দাবি করে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। আর এ কারণে নিশানা করা হয় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও হাজারো প্রশ্ন তোলা হয়। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দুর্গাপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে একইভাবে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
দুর্গাপুরে এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনা প্রসঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বাংলায় (West Bengal) পরপর এমন ঘটনায় রাজ্যের সম্মান দেশ-বিদেশে ভূ-লুণ্ঠিত হচ্ছে। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রশাসনকে আক্রমণ করে তিনি এও বলেন, সবাই অপদার্থ পুলিশ (WBP) এবং মুখ্যমন্ত্রীকে দেখছেন। এঁরা হচ্ছে আসলে বাংলার লজ্জা।
দুর্গাপুরে (Durgapur) এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের (Medical College) দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সন্ধেবেলা ক্যাম্পাসের বাইরে খাবার খেতে বেরিয়ে ধর্ষণের (Rape) শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ওই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (যেখানের ছাত্রী ওই পড়ুয়া এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন) কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে স্বাস্থ্যভবন। এই ঘটনার পাশাপাশি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জেও এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে শোরগোল। শুভেন্দুর কথায়, গোটা বাংলায় এই ধরনের মানুষ ছড়িয়ে রয়েছে।
জলপাইগুড়ির ঘটনায় অভিযুক্তর ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে, মেয়েরা সুরক্ষিত নয়। অথচ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এই সময়ে পুলিশ-মুখ্যমন্ত্রীর কী অবস্থান তা জানতে চান তাঁরা। শুভেন্দু বলেন, ''কিছু হলেই তো পুলিশের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। কিন্তু এই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও ভূমিকা থাকে না। এদের তো জমা করার সঙ্গে সঙ্গে খরচ করে ফেলার কথা।'' শুভেন্দুর সাফ কথা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী না করা পর্যন্ত এই ঘটনা কমবে না। রাজ্যে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশের মতো শাসন দরকার। নাহলে এই মডেলই চলতে থাকবে।
বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাঁরা যা যা করার তাই করবেন। দরকারে আইনি সাহায্য দেওয়া, প্রতিবাদ, আন্দোলন সবই হবে। রাজ্যের সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দুর খোঁচা, ''সরকার ন্যক্কারজনক। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে।''
দুর্গাপুরের ঘটনা নিয়ে নির্যাতিতার মা দাবি করেন, অভিযুক্তরা মেয়েকে ধর্ষণ করার পর মোবাইলও (Mobile) ছিনিয়ে নিয়েছিল। আর তা ফেরত দেওয়ার নামে ৩ হাজার টাকা চেয়েছিল। তিনি জানান, মেয়ে প্রথমে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে চায়নি। তাঁকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক যুবক নিয়ে যায়। সে সময়ে আরও ৩-৪ জন তাদের পিছু নিয়েছিল। এই সময়ে হঠাৎ মেয়ের সঙ্গে থাকা যুবক এক জঙ্গলে ঢুকে যায়। সেই সুযোগেই বাকিরা তাকে ওই জঙ্গলে নিয়ে গিয়েই ধর্ষণ করে।
ভিনরাজ্যে মেয়েকে পড়তে পাঠিয়ে এমন বিপদ ঘটবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বাবা-মা। 'কলেজ তো ভাল জেনেই পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে,' গলায় আক্ষেপ নির্যাতিতার বাবার। তিনি মনে করছেন, তাঁর মেয়ে এখানে আর কোনওভাবেই নিরাপদ নন। মেয়ের সঙ্গে ঘটা এই নির্মম ঘটনায় যারা দোষী তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত দোষীদের ধরা হবে জানিয়ে পুলিশ তাঁকে আশ্বাস দিয়েছে।