শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা ৯ নাগাদ ঘটে এই ঘটনা। সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা নাগাদ ওড়িশায় বসে খবর পান বাবা-মা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা রাতেই বেরিয়ে পড়েন, তড়িঘড়ি ভোর নাগাদ এসে পৌঁছন দুর্গাপুরে।

নির্যাতিতার মা
শেষ আপডেট: 11 October 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরে (Durgapur) এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের (Medical College) দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সন্ধেবেলা ক্যাম্পাসের বাইরে খাবার খেতে বেরিয়ে ধর্ষণের (Rape) শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ওই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (যেখানের ছাত্রী ওই পড়ুয়া এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন) কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে স্বাস্থ্যভবন। এদিকে ঘটনায় মুখ খুলে নির্যাতিতার মা (Victim Mother) আরও অভিযোগ করেছেন।
সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতার মা দাবি করেন, অভিযুক্তরা মেয়েকে ধর্ষণ করার পর মোবাইলও (Mobile) ছিনিয়ে নিয়েছিল। আর তা ফেরত দেওয়ার নামে ৩ হাজার টাকা চেয়েছিল। তিনি জানান, মেয়ে প্রথমে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে চায়নি। তাঁকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক যুবক নিয়ে যায়। সে সময়ে আরও ৩-৪ জন তাদের পিছু নিয়েছিল। এই সময়ে হঠাৎ মেয়ের সঙ্গে থাকা যুবক এক জঙ্গলে ঢুকে যায়। সেই সুযোগেই বাকিরা তাকে ওই জঙ্গলে নিয়ে গিয়েই ধর্ষণ করে।
তিনি আরও বলেন, ৩-৪ জনের সঙ্গে আরও ২ জন এসেছিল। মেয়েকে ধর্ষণের পর মোবাইল ছিনিয়ে নেয় তারা। বলেছিল ভোরের মধ্যে ৩ হাজার টাকা দিতে নাহলে ফোন ফেরত পাবে না। শুধু তাই নয়, কাউকে কিছু বললে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। যারা এই কাজ করেছে তারা মেয়েরই সহপাঠী বলে দাবি তাঁর।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা ৯ নাগাদ ঘটে এই ঘটনা। সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা নাগাদ ওড়িশায় বসে খবর পান বাবা-মা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা রাতেই বেরিয়ে পড়েন, তড়িঘড়ি ভোর নাগাদ এসে পৌঁছন দুর্গাপুরে।
পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেছেন নির্যাতিতার সঙ্গে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্ত জানিয়েছেন, “তদন্ত চলছে। নতুন তথ্য পুলিশের কাছে এলে তা জানানো হবে।” বিষয়টির সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে তদন্ত করছে পুলিশ।
ভিনরাজ্যে মেয়েকে পড়তে পাঠিয়ে এমন বিপদ ঘটবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বাবা-মা। 'কলেজ তো ভাল জেনেই পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে,' গলায় আক্ষেপ নির্যাতিতার বাবার। তিনি মনে করছেন, তাঁর মেয়ে এখানে আর কোনওভাবেই নিরাপদ নন। মেয়ের সঙ্গে ঘটা এই নির্মম ঘটনায় যারা দোষী তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত দোষীদের ধরা হবে জানিয়ে পুলিশ তাঁকে আশ্বাস দিয়েছে।
ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, কারণ বিষয়টি এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এই ঘটনায় সেই সহপাঠীও জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।