কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি, বললেন, “এটা ভারতের মূল্যবোধের পরিপন্থী, লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক।”

মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 11 October 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে তালিবান মন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির (Afghan Foreign Minister Amir Khan Muttaqi) সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের (Woman Journalists) প্রবেশ নিষিদ্ধ করা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ (TMC MP) মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি, বললেন, “এটা ভারতের মূল্যবোধের পরিপন্থী, লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক।”
শনিবার ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তায় মহুয়া বলেন, “আজ দিল্লির মাটিতে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি, যিনি তালিবান সরকারের প্রতিনিধি, আমাদের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, যেখানে মহিলা সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের অনুমতিতেই এই বৈঠক হয়েছে, এটা জাতির লজ্জা।”
মহুয়া অভিযোগ করেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রক এই তালিবান মন্ত্রীর জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। এমন একজন ব্যক্তি, যিনি তাঁর দেশে মহিলাদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, এমনকি স্বাধীন চলাফেরার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তিনি দিল্লির মাটিতে এসে মহিলা সাংবাদিকদের সরিয়ে রাখতে বলেছেন। আর আমাদের সরকার তাতে সহযোগিতা করছে!”
তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, “এটাই কি ভারতের পররাষ্ট্রনীতি? এমন এক সরকারকে মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে, যাদের হাতে আফগান মহিলাদের রক্ত লেগে আছে। আমরা করদাতাদের টাকায় এই প্রহসন চালাচ্ছি। এটা ভারতের জন্য চরম অপমানের।”
মহুয়া মৈত্রের প্রশ্ন, “যে সমস্ত পুরুষ সাংবাদিক ওই কক্ষে ছিলেন, তাঁরা কেউ প্রতিবাদ করলেন না কেন? আপনারা কি সম্পূর্ণ মেরুদণ্ডহীন? মহিলা সহকর্মীদের অপমান করা হচ্ছে আর আপনি নীরব থাকলেন? এটা সাংবাদিকতার নৈতিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত।”
সরকারের নারী-স্বাধীনতা সংক্রান্ত প্রচারের বিরোধিতায় তৃণমূল নেত্রীর কটাক্ষ, “আপনারা ‘বেটি বাঁচাও’, ‘মা-বোনের সম্মান রক্ষা’ বলছেন। অথচ দিল্লিতেই এমন এক বিদেশি মন্ত্রীকে প্রটোকল দিচ্ছেন, যিনি মহিলা সাংবাদিকদের ঘর থেকে বের করে দিতে বলেছেন! এটা ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
শেষে মহুয়া বলেন, “আমি একা নই, আশা করি দেশের প্রতিটি নারী এই ঘটনার কথা জানবেন, ক্ষুব্ধ হবেন এবং সরকারের কাছে প্রশ্ন করবেন। এটা শুধু মহিলাদের নয়, ভারতের সম্মানের প্রশ্ন।”