শুক্রবার আফগানিস্তানের দূতাবাসে আয়োজিত এই প্রেস কনফারেন্সে কোনও মহিলা সাংবাদিককেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

আফগানিস্তানের দূতাবাসে প্রেস কনফারেন্সে
শেষ আপডেট: 11 October 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে আফগান বিদেশমন্ত্রী (Taliban Foreign Minister) আমির খান মুত্তাকির (Amir Khan Muttaqi) সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের (Women Journalists) প্রবেশ নিষিদ্ধ করা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। শুক্রবার আফগানিস্তানের দূতাবাসে আয়োজিত এই প্রেস কনফারেন্সে (Press conference in Afghanistan embassy) কোনও মহিলা সাংবাদিককেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
মুত্তাকি আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী। নারীদের শিক্ষা ও চাকরির ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপের জন্য কুখ্যাত এই তালিবান শাসন। এবার সেই একই মানসিকতা যেন দেখা গেল দিল্লির মধ্যেই।
সূত্র অনুযায়ী, সাংবাদিক বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ঘটনাটি নিয়ে আপত্তি জানালেও, তাতে কোনও কাজ হয়নি। পরবর্তীতে একাধিক সাংবাদিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জানান, তাঁরা সকলেই পোশাকবিধি মেনেই উপস্থিত হয়েছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি পৌঁছে শুক্রবার বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন মুত্তাকি। ওই বৈঠককেই ভারত-আফগান সম্পর্কের একটি বড় ‘রিসেট’ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। সেই বৈঠকেই জয়শঙ্কর ঘোষণা করেন, কাবুলে ভারতের ‘টেকনিক্যাল মিশন’-কে এখন থেকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত করা হবে।
“ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ,” — মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।
তবে দুপুরের সাংবাদিক বৈঠকেই ঘটল এই বিতর্কিত ঘটনা।
সন্ত্রাস নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ
সাংবাদিক বৈঠকে মুত্তাকি দাবি করেন, আফগান মাটিতে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ঘাঁটি নেই। তিনি বলেন, “লস্কর-ই-তইবা বা জইশ-ই-মহম্মদের মতো কোনও সংগঠন আফগানিস্তানে সক্রিয় নয়। দেশের এক ইঞ্চি জমিও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। শান্তির জন্য অন্যান্য দেশগুলোকেও একই পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, সাম্প্রতিক এক হামলার জন্য পাকিস্তানই দায়ী এবং কেউ যেন আফগানিস্তানের শান্তিতে বাধা না দেয়।
“ভারতকে আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেখি। পারস্পরিক সম্মান, বাণিজ্য এবং জনগণের সম্পর্কের ভিত্তিতেই আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই,” — বলেন আফগান বিদেশমন্ত্রী।
তবে মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, তালিবান সরকারের নারী-বিরোধী নীতি কি এখন কূটনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ছে?