বৈঠকের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই দেখা যায়— প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সবাই পুরুষ সাংবাদিক। একজনও মহিলা সাংবাদিক সেখানে ছিলেন না।

তালিবান মন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্স
শেষ আপডেট: 11 October 2025 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির (Amir Khan Muttaqi) দিল্লি সফরে বড় বিতর্কের জন্ম দিল তাঁর সাংবাদিক বৈঠক(Taliban Minister Press Conference)। শুক্রবার দিল্লিতে সেই প্রেস কনফারেন্সে কোনও মহিলা সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। প্রকাশ্যে এই লিঙ্গবৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাংবাদিক মহল, রাজনৈতিক দল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায়।
শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন আফগান মন্ত্রী মুত্তাকি। আলোচনার বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা। কিন্তু সেই বৈঠকের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই দেখা যায়— প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সবাই পুরুষ সাংবাদিক। একজনও মহিলা সাংবাদিক সেখানে ছিলেন না।
এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হন বহু সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা। অনেকে এটিকে ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ‘চরম অপমান’ বলে সমালোচনায় নেমে পড়েন।
ভারতীয় সাংবাদিক গীতা মোহন এক্সে লেখেন, “আফগান বিদেশ মন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে মহিলা সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।” অন্য এক সাংবাদিকের মন্তব্য, “এই বৈঠক বয়কট করা উচিত ছিল পুরুষ সাংবাদিকদেরও। ওরাই যদি প্রতিবাদ করতেন, বার্তাটা অনেক জোরদার হতো।” সাংবাদিক সুহাসিনী হায়দায় কটাক্ষ করে বলেন, “তালিবান তাদের নারী-বিরোধী নীতিকে ভারতের মাটিতেও নিয়ে এসেছে। এটা কোনো কূটনৈতিক কৌশল নয়, আত্মসমর্পণ।”
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “সরকার দেশের প্রতিটি মহিলার সম্মানহানি করেছে। তালিবান মন্ত্রীকে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দিতে অনুমতি দিয়ে একেবারে মেরুদণ্ডহীনতার প্রমাণ দিল কেন্দ্র।”
বিতর্ক বাড়তেই শনিবার বিবৃতি দিয়ে জানায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA), ওই প্রেস কনফারেন্সের সঙ্গে তাদের কোনও যোগ ছিল না। মন্ত্রকের দাবি, “এই বৈঠক সম্পূর্ণ তালিবান প্রতিনিধিদলের উদ্যোগে হয়েছিল, ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না।”
তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তানে মহিলাদের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। মেয়েদের স্কুল ও কলেজে যাওয়া বন্ধ, কর্মক্ষেত্র থেকে মহিলাদের বাদ দেওয়া— এমনই নারীবিদ্বেষী নীতির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে আগেই সমালোচিত হয়েছে তালিবান। জুলাই মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জও এই নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর এটাই মুত্তাকির প্রথম ভারত সফর। কিন্তু সফরের শুরুতেই মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া নিয়ে যে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন তুলে দিল অনেকের মত। বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য মনে করে, এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনও আঁচ পড়বে না।