পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি দ্রুত গতিতে চলছিল। গাড়ির ভিতরে মদের বোতল ও চিপস পাওয়া গিয়েছে। তাদের অনুমান, দুর্ঘটনার সময় চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 December 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন (Uttar Pradesh Road Accident) চারজন তরুণ ইন্টার্ন চিকিৎসক। মৃতদের মধ্যে দু’জন বাংলার বাসিন্দা, তাঁদের একজন বেলঘরিয়ার অর্ণব চক্রবর্তী (Arnab Chakraborty Death)। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই রাজ্যেই। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের গাড়ি গিয়ে ধাক্কা মারে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি গাড়িতে (Uttar Pradesh Road Accident)। সেই ধাক্কা এতটাই ভয়ানক ছিল যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের। গাড়ির ভিতরেই আটকে ছিল তাঁদের দেহ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি দ্রুত গতিতে চলছিল। গাড়ির ভিতরে মদের বোতল ও চিপস পাওয়া গিয়েছে। তাদের অনুমান, দুর্ঘটনার সময় চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তবে পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ মৃত চিকিৎসক অর্ণব চক্রবর্তীর পরিবার (Arnab Chakraborty Death)। তাঁদের দাবি, অর্ণব কোনওদিন মদ্যপান করতেন না এবং তিনি গাড়ি চালাতেও পারতেন না। দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা পুলিশের আরও ভালভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।
মৃতদের চারজনই ছিলেন আমরোহার ভেঙ্কটেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ ব্যাচের MBBS-এর ছাত্র। পড়াশোনা শেষে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়েরই হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছিলেন। বুধবার রাতে তাঁরা সবাই মিলে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন লংড্রাইভের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা (Uttar Pradesh Road Accident)। অর্ণবের বাবা জানিয়েছেন, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ন’টার দিকে একটি ফোন আসে তাঁর কাছে। ফোন ধরতেই জানতে পারেন দুর্ঘটনার খবর। পরে আবার ফোন করে জানানো হয়, অর্ণব আর নেই। খবর শুনে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।
অর্ণবের পরিবার জানায়, আরও প্রায় পাঁচ মাস ইন্টার্নশিপ বাকি ছিল। জুন মাসে কনভোকেশন হওয়ার কথা ছিল। শীত কমলেই ছেলের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল মা-বাবার। অর্ণবের সহপাঠী এবং রুমমেট সপ্তর্ষিও সেই গাড়িতে ছিলেন। তাঁদের পরিবার ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে পৌঁছে গিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে অর্ণবের দেহ আনা হবে বেলঘরিয়ায়।
এই দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ ভেঙ্কটেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়ও। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার কারণ কি না, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চার তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠছে, রাতের বেলা নিরাপদ যাতায়াতে কী ধরনের সচেতনতা প্রয়োজন। পরিবারগুলির ভেঙে পড়া অবস্থা দেখে এলাকার মানুষও শোক প্রকাশ করেছেন।