পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ থেকেই এই খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

শেষ আপডেট: 26 December 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড ছবি ‘দৃশ্যম’-এর গল্প যেন পর্দা থেকে বাস্তবে নেমে এল উত্তরপ্রদেশে (Drishyam style murder in UP)। গোপনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সন্দেহে স্ত্রীকে খুন (UP man kills wife over secret phone)! শুধু তাই নয়, খুনের পর প্রমাণ লুকোতে বাড়ির পিছনে গর্ত খুঁড়ে দেহ পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে (Gorakhpur murder case)। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে পুলিশকে আত্মহত্যার গল্প শোনালেও শেষ পর্যন্ত জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম অর্জুন। তিনি লুধিয়ানায় শ্রমিকের কাজ করেন। ২১ ডিসেম্বর তিনি গোরক্ষপুরে নিজের বাড়িতে ফেরেন। সেদিন বাড়িতে ফিরে তিনি স্ত্রী খুশবুকে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফোনটি তিনি স্বামীর কাছ থেকে গোপন করে রাখতেন (UP man kills wife over secret phone)।
এই বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। ওই রাতে বাড়িতে তখন আর কেউ ছিলেন না। পুলিশের দাবি, রাগের মাথায় অর্জুন স্ত্রী খুশবুকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন।
খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য বাড়ির পিছনে প্রায় ছ’ফুট গভীর একটি গর্ত খুঁড়ে সেখানে স্ত্রীর দেহ পুঁতে দেন তিনি। দেহের সঙ্গে একটি ভাঁজ করা খাটও ওই গর্তে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর অর্জুন পরিবারের সদস্যদের জানান, খুশবু কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। পরিবারের লোকজন কয়েক দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান না পেলে, খুশবুর বাবা অর্থাৎ অর্জুনের শ্বশুর থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে তিনি সরাসরি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, তাঁর মেয়েকে খুন করেছে জামাই।
তদন্তে নেমে পুলিশ অর্জুনকে হেফাজতে নেয়। জেরার সময় অভিযুক্ত পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায়। সে দাবি করে, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং দেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে সে গ্রামের বাইরে নদীর ধারে নিয়ে গিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘোরাতে থাকে।
প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে নদীতে তল্লাশি চালিয়েও কোনও দেহ না মেলায়, পুলিশ ফের অর্জুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর বাড়ির পিছনে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হলে সেখান থেকেই উদ্ধার হয় খুশবুর দেহ।
গোরক্ষপুরের সার্কেল অফিসার শিল্পা কুমারী বলেন, “অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ থেকেই এই খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতির বিয়ে হয়েছিল মাত্র দু’বছর আগে। তাঁদের কোনও সন্তানও নেই।
খুশবুর ছোট ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্জুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।