স্নাতকস্তরে (Graduation) পড়ানো হবে প্রাচীন ভারতীয় গণিত (Ancient Bharatiya Math)। নতুন পাঠক্রমের (Syllabus) খসড়া প্রস্তাবে এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 23 August 2025 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্নাতকস্তরে (Graduation) পড়ানো হবে প্রাচীন ভারতীয় গণিত (Ancient Bharatiya Math)। নতুন পাঠক্রমের (Syllabus) খসড়া প্রস্তাবে এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। সেখানে জায়গা পাচ্ছে সূত্রভিত্তিক গণিত, বৈদিক যুগের শুল্বসূত্রের জ্যামিতি, সূর্য-চন্দ্র-তারার গতিপথ ধরে সময় নির্ণয় বা কাল গণনা, এমনকি পঞ্জিকা দেখে শুভক্ষণ (মুহূর্ত) নির্ধারণের প্রক্রিয়াও।
২০ অগস্ট প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি-র সচিব মণীশ যোশী জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ অনুসারে প্রস্তাবিত এই পাঠক্রম মডেল কারিকুলাম হিসেবে কাজ করবে। উদ্দেশ্য, পাঠ্যসূচির বিন্যাসে নতুনত্ব আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও নমনীয়তা দেওয়া।
পাঠ্যক্রমে কী থাকছে?
এছাড়া, ভারতীয় গণিতের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ কোর্স— ভারত থেকে গ্রিস, আরব দেশ হয়ে ইউরোপে গণিত ও ক্যালকুলাসের প্রসার কীভাবে হল, কেন ইতিহাসে তার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো হয়েছে, সে কথাও জানবে পড়ুয়ারা।
ইউজিসি প্রস্তাব করছে একটি ‘ভ্যালু-অ্যাডেড’ কোর্স, যেখানে থাকবে দ্বাদশ শতকের মহামানব ভাস্করাচার্যের লীলাবতী। সহজ ছন্দে লেখা এই গ্রন্থে অঙ্ক ও জ্যামিতি শেখানোর পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। আরও একটি কোর্সে থাকবে ভারতীয় দর্শন ও গণিতের যোগসূত্র। বেদ, বেদাঙ্গ, পুরাণ, দর্শনশাস্ত্র— সব কিছুর মধ্য দিয়ে গণিতের দার্শনিক দিক এবং অর্থশাস্ত্র ও ছন্দশাস্ত্র-এ গণিতের প্রয়োগ পড়ানো হবে।
তবে এ নিয়ে সংশয়ও যাচ্ছে না। গণিত অধ্যাপকদের বক্তব্য, এই পাঠক্রমে প্রাচীন ভারতীয় গণিতের উপর এত জোর দেওয়া হয়েছে যে, আধুনিক গণিতের প্রস্তুতি কমে যেতে পারে। তাছাড়া, এই সিলেবাস পড়ে পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা আইআইটি বা আইআইএসআর-এর মতো প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণায় পিছিয়ে পড়বেন।