শুধু বাংলাতেই নয়, অঙ্ক দুনিয়ার সব জাতের, ধর্মের ও বর্ণের কোটি কোটি মানুষের কাছে দুরূহ এক বিষয়।

ডঃ টমাস জোসেফ ও মেয়ে এমি ওট্টাপলাক্কাল।
শেষ আপডেট: 5 July 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকের কাছে অঙ্ক বিষয়টি শূন্য আঁকার মতোই সহজ। আবার অনেকের কাছে ১০০ লেখার মতো কঠিন। অঙ্কে লবডঙ্কা বলে একটা প্রবাদই চালু আছে বাংলায়। শুধু বাংলাতেই নয়, অঙ্ক দুনিয়ার সব জাতের, ধর্মের ও বর্ণের কোটি কোটি মানুষের কাছে দুরূহ এক বিষয়। একটা জনশ্রুতি আছে যে, আইনস্টাইন নাকি তাঁর এক প্রতিবেশী বালকের কাছে প্রাথমিকস্তরের অঙ্ক শিখতে যেতেন। কারণ, তিনি যে স্তরের অঙ্কের কক্ষপথে চলে গিয়েছিলেন, সেই মহাকাশীয় অঙ্কগ্রহ থেকে স্কুলপাঠ্য গণিতের সম্পর্ক ছিঁড়ে গিয়েছিল। আবার অনেকের কাছে অঙ্ক হল জলের মতো সহজ-সরল এক তরঙ্গ। সব মিলিয়ে শিক্ষার অপরিহার্য একটি অংশ হল, অঙ্ক।
সেই অঙ্কের জ্ঞানকেই সকলের মধ্যে বিনামূল্যে বিলিয়ে দিতে এক অসাধারণ ব্যবস্থা চালু করেছেন এক পিতা-পুত্রী। কারণ, পৃথিবীতে শিক্ষা হল একমাত্র সেই সম্পদ, যা বিকিয়ে দিলে বাড়ে। তাই নিজের জ্ঞানবুদ্ধি সাধারণের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করার অঙ্গীকার নিয়েছেন কেরলের এই বাবা ও মেয়ে। বাবার নাম ডঃ টমাস জোসেফ। তিনি উদয়পুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের (IIM) প্রাক্তন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। তাঁর মেয়ের নাম এমি ওট্টাপলাক্কাল। তিনি কোঝিকোড় আইআইএমের স্নাতক।
অন্যদের সঙ্গে এই মানুষ দুটির পার্থক্য হচ্ছে, তাঁরা নিজেরা যা রপ্ত করেছেন, অর্জন করেছেন, তা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বাচ্চাদের মধ্যে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন। তাই বাবা-মেয়ে মিলে এক অভিনব পন্থা বের করেছেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে MyLQ নামে তাঁরা একটি অ্যাপ চালু করেছেন। যেখানে বিনা পয়সায় কোচিং ক্লাস করাচ্ছেন তাঁরা।
এমি বলেন, আমরা দেখেছি যে, ক্যাটের (Common Admission Test) মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফল করতে গেলে অঙ্কে অনেক বেশি দক্ষতা প্রয়োজন। যত বেশি অঙ্ক জানা যাবে, ততই এই ধরনের পরীক্ষায় সাফল্য পায়ে এসে পড়বে। সেই মতো এমি ২০২২ সালের শিক্ষক দিবসে MyLQ নামে অ্যাপটি ডেভেলপ করেন। কোঝিকোড়ের এই পিতাপুত্রী অঙ্ক না জানার জন্য কাউকে জীবনে অকৃতকার্য হতে দিতে চান না। MyLQ-এর ৩০ দিনের (দিনে আধঘণ্টা) এই অনলাইন পাঠশালায় বাচ্চাদের অঙ্কের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাবা-মেয়ে অনলাইন ছাড়াও রাজ্য ও রাজ্যের বাইরেও তাঁদের এই অবৈতনিক পাঠশালা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। শুধু কোঝিকোড় কর্পোরেশন এলাকাতেই ১৫টি স্কুলে তাঁদের ‘গণিতম মধুরম’ (মধুর গণিত) নামের প্রচার চালিয়েছেন।
তাঁদের কথায়, বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে অঙ্কের ভিত গড়ে ওঠার আগেই চতুর্থ শ্রেণি পাশ করে যায়। আর অঙ্ক না জানার বিরাট শূন্যতা এখান থেকেই তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে তাদের ক্ষতি করে দেয়। তাই এই কর্মসূচি কেবলমাত্র প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্তই নয়, প্রয়োজনে বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থাও খোলা রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৫টি প্রশ্নের জন্য যেখানে ১৭ মিনিট করে সময় লাগত, সেখানে তাঁদের পাঠ নিয়ে অঙ্ক কষায় সময় ১-৪ মিনিটে নেমে এসেছে। তাই যে কেউ তাঁর অঙ্কের দক্ষতা বাড়াতে পারেন এখানে www.mylearningquotient.com।