প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) আগামী ২৬ জুলাই মালদ্বীব (Maldives) যাবেন। অত্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 5 July 2025 09:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) আগামী ২৬ জুলাই মালদ্বীব (Maldives) যাবেন। অত্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
২৬ জুলাই ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ৬০ তম স্বাধীনতা দিবস (Maldives 60th Independence day)। ১৯৬৫ সালে ওইদিনে দেশটি ব্রিটিশের কবলমুক্ত হয়েছিল। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মইজ্জু (Maldives President Md Muizzu) স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গত মাসে মালদ্বীপের বিদেশমন্ত্রী দিল্লি এসে সরকারি আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছেন। গত বছর মইজ্জু ভারত সফরে এসে নরেন্দ্র মোদীকে মৌখিক আমন্ত্রণ জানিয়ে গিয়েছিলেন।
মইজ্জু গত বছর মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবার পর এবারই প্রথম মোদী সে দেশে সরকারি সফরে যাবেন। মইজ্জুর শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও যাননি তিনি।
পরিস্থিতি অবশ্য তখন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারত বিরোধিকার সুর চড়িয়ে ক্ষমতায় আসা মইজ্জু দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই তাঁর দেশ থেকে ভারতীয় সেনাদের ফেরত পাঠিয়ে দেন। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন মালদ্বীপের বন্দর ব্যবহারে। এছাড়া ভারতীয় পণ্যের উপরও কঠোর শর্ত আরোপ করেন।
আশ্চর্যের হল মইজ্জু নিজের দেশেই এ নিয়ে বিপাকে পড়েন। চিনের প্ররোচণায় তিনি এই সব পদক্ষেপ করছেন বলে বিরোধীরা সরব হয়। পাল্টা ভারতও মালদ্বীপে পর্যটক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়ে সে দেশের পর্যটন ব্যবসা।
পরিস্থিতি আঁচ করে পথ বদলের ইঙ্গিত দেন। দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কথা দিয়ে যান মালদ্বীপের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ইতিহাসকে বিবেচনায় রেখে চলবে তাঁর সরকার। এমনকী মোদীর সমালোচনা করা দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন মইজ্জু।
মালদ্বীপের একদা ভারত বিরোধী প্রেসিডেন্টের পথ বদলের আরও একটি কারণ চিনের ঋণ। বছরের পর বছর চিনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ শোধ করকে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে দেশটির। অন্যদিকে, ভারত সফরে এসে মইজ্জু বিপুল অঙ্কের অনুদানের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়ে গিয়েছেন।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মালদ্বীপ এবং মইজ্জুর অবস্থান বদল বাংলাদেশ ও সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ইউনুস চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারত বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। চিনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ নিতে অগ্রসর হয়েছেন তিনি। তাঁর চিন প্রীতি এতটাই যে গত ২৬ মার্চ দেশের স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম কাটছাঁট করে ইউনুস সে দেশে একটি বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দিতে চলে যান।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে ভারত বিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। বাংলাদেশেও অস্থিরতা তৈরি করছে তারা। বাংলাদেশের একাধিক আর্থিক বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যেভাবে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে বাংলাদেশ চিনের দিকে ঝুঁকছে তাতে অচিরেই দেশটির অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে। চিনের দেওয়া ঋণের টাকা সুদে-আসলে মেটাতে গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়ছিল শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। আর এক দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার থেকে শিক্ষা নিয়েই মালদ্বীপ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।