পুলিশ গাড়িটির ড্যাশক্যাম পরীক্ষা করে, যেখানে ঘটনার অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই ফুটেজ তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 26 December 2025 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষশেষের আনন্দ উদযাপনে ফের কালো ছায়া। উদয়পুরের একটি বেসরকারি আইটি সংস্থার সিইও (CEO) এবং কোম্পানির এক এক্সিকিউটিভ এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশ জুড়ে (Udaipur IT firm CEO gang rape)। পার্টির পর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে এক মহিলা কর্মীকে গাড়িতে তুলে চলন্ত অবস্থাতেই ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে (Udaipur gang rape case)। ঘটনায় সংস্থার সিইও, এক পুরুষ সহকর্মী এবং তাঁর স্ত্রী-সহ মোট তিন জনকে গ্রেফতার করেছে উদয়পুর পুলিশ (Udaipur Police)।
বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্যাতিতা নিজে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরই তদন্ত শুরু হয়। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয় এবং মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। উদয়পুরের জেলা পুলিশ সুপার যোগেশ গোয়াল জানান, চিকিৎসা পরীক্ষায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যা প্রাথমিক ভাবে গণধর্ষণের (gang rape) অভিযোগকে সমর্থন করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘটনার সময় ব্যবহৃত গাড়িতে লাগানো একটি ওয়েবক্যামের ফুটেজ। সেই ফুটেজে অডিও এবং ভিডিও, দু’ধরনের রেকর্ডই রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে সংস্থার সিইও জীতেশ সিসোদিয়া, তাঁর সহকর্মী গৌরব এবং গৌরবের স্ত্রী শিল্পাকে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হচ্ছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জীতেশ সিসোদিয়ার অনলাইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ‘GKM IT Private Limited’ নামের একটি আইটি সংস্থার সিইও।
তরুণীর দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০ ডিসেম্বর। ওই দিন সংস্থার সিইও উদয়পুরের শোভাগপুরা এলাকার একটি হোটেলে জন্মদিন এবং নতুন বছর উপলক্ষে একটি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। নির্যাতিতা রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ সেখানে পৌঁছন। পার্টি চলে গভীর রাত পর্যন্ত, প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়।
ওই পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সিইও, এক সিনিয়র মহিলা এক্সিকিউটিভ এবং তাঁর স্বামী। অভিযোগ অনুযায়ী, পার্টির শেষের দিকে নির্যাতিতা বুঝতে পারেন অত্যধিক নেশা হয়ে গিয়েছে। তখন উপস্থিত কয়েক জন তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেই সময় ওই মহিলা এক্সিকিউটিভ তাঁকে ‘আফটার পার্টি’-তে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান বলে অভিযোগ।
রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ নির্যাতিতাকে একটি গাড়িতে বসানো হয়। সেই গাড়িতে আগে থেকেই ছিলেন সিইও এবং ওই মহিলা এক্সিকিউটিভের স্বামী। অভিযোগ অনুযায়ী, তিন জন মিলে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়ি চালাতে থাকেন। পথে একটি দোকানে গাড়ি থামিয়ে ধূমপানের সামগ্রী কেনা হয় এবং নির্যাতিতাকে জোর করে ধূমপান করানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ধূমপানের পর নির্যাতিতা অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পরে আংশিক চেতনা ফিরলে তিনি দেখেন, সিইও তাঁর শ্লীলতাহানি করছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর সিইও, ওই মহিলা এক্সিকিউটিভ এবং তাঁর স্বামী - তিন জন মিলে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন।
নির্যাতিতা বারবার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলেও, তাঁকে ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ বাড়িতে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ চেতনা ফিরে আসার পর তিনি দেখেন তাঁর একটি কানের দুল, মোজা এবং অন্তর্বাস নিখোঁজ। একই সঙ্গে তাঁর গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্নও লক্ষ্য করেন। পরবর্তীতে পুলিশ গাড়িটির ড্যাশক্যাম পরীক্ষা করে, যেখানে ঘটনার অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই ফুটেজ তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলছে। আরও তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।