মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের সাজা স্থগিত রেখে জামিন মঞ্জুর করলেও, তাতে তাঁর অবিলম্বে মুক্তি হচ্ছে না। কারণ, ধর্ষিতা তরুণীর বাবার হেফাজতে মৃত্যু সংক্রান্ত পৃথক মামলায় এখনও ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন তিনি।
.jpeg.webp)
কুলদীপ সিং সেঙ্গার
শেষ আপডেট: 25 December 2025 08:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় (Unnao Rape Case) প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের (Kuldeep Singh Sengar) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত করে দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) যে রায় দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ খতিয়ে দেখে দ্রুত স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করা হবে।
মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের সাজা স্থগিত রেখে জামিন (Bail) মঞ্জুর করলেও, তাতে তাঁর অবিলম্বে মুক্তি হচ্ছে না। কারণ, ধর্ষিতা তরুণীর বাবার হেফাজতে মৃত্যু সংক্রান্ত পৃথক মামলায় এখনও ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, চাকরি দেওয়ার নামে ডেকে এনে উন্নাওয়ের এক নাবালিকাকে (Minor Girl) ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সেই সময় উত্তরপ্রদেশের বাঙ্গেরমউ কেন্দ্রের চার বারের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার (Kuldeep Singh Sengar) ও তাঁর সহযোগী শশী সিংহের বিরুদ্ধে। কুলদীপের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে নির্যাতিতার বাবাকেই গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতেই মৃত্যু হয় নাবালিকার বাবার।
সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মামলায় হাইকোর্টে সময়মতো লিখিত আপত্তি ও যুক্তি জমা দেওয়া হয়েছিল। ধর্ষিতার পরিবারও জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে নিরাপত্তা ও হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেছিল। তা সত্ত্বেও সাজা স্থগিত হওয়ায় তদন্তকারী সংস্থা বিষয়টি শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাইকোর্ট অবশ্য সেঙ্গারের উপর একাধিক কড়া শর্ত (Conditions) আরোপ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি ধর্ষিতার বাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে যেতে পারবেন না, দিল্লির বাইরে থাকতে পারবেন না এবং প্রতি সোমবার স্থানীয় থানায় হাজিরা দিতে হবে। পাশাপাশি, ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও সমমূল্যের তিনজন জামিনদার দিতে হবে। পাসপোর্ট জমা দেওয়া এবং ধর্ষিতা বা তাঁর পরিবারের কাউকে হুমকি না দেওয়ারও নির্দেশ রয়েছে। কোনও শর্ত ভাঙলেই জামিন বাতিল হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ধর্ষিতা তরুণী বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর পরিবারের কাছে ‘মৃত্যুর সমান’। তিনি নিজেও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন ধর্ষিতা ও তাঁর মাকে পুলিশ সরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
উল্লেখ্য, উন্নাও কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মোট পাঁচটি মামলা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। বিচার দ্রুত শেষ করা এবং ধর্ষিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
সিবিআইয়ের মূল লক্ষ্য, সেঙ্গারের সাজা স্থগিতের আদেশ খারিজ করে আবার তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করা।