অবৈধ ‘ডঙ্কি রুটে’ আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টা করে আজারবাইজানে অপহৃত হন গুজরাতি যুগল। ভিডিও কলে পরিবারের সামনে তাঁদের ওপর চালানো নির্যাতনে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন জীবনের আশায় ‘ডাঙ্কি রুট’(Donkey Route) ধরে আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে বদলে গেল দুই গুজরাতির জীবন। ধ্রুব পটেল (Dhruv Patel) ও দীপিকা পটেলের (Deepika Patel) কাছে এ এক মারাত্মক যন্ত্রণার গল্প।
যাত্রার কয়েক দিনের মধ্যেই দু’জনকে অপহরণ করা হল আজারবাইজানে (Azerbaijan), চলে ভয়াবহ নির্যাতন, এমনকি অঙ্গ পাচার (Organ Trafficking) করার হুমকিও পান তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ভারতের দূতাবাস ও বিদেশ মন্ত্রকের উদ্যোগে দু’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গুজরাতের আনন্দ জেলার (Anand District) কানথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ধ্রুব ও দীপিকা ৩০ জানুয়ারি আমেরিকা যাওয়ার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন। মুম্বই-ভিত্তিক এক এজেন্টের (Agent) মাধ্যমে অবৈধ ডঙ্কি রুটে যাওয়ার কথা ঠিক হয়। ধ্রুব প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ও দীপিকা ১৫ লক্ষ টাকা দেন সেই এজেন্টকে। আনন্দ থেকে ভাদোদরা, সেখান থেকে দিল্লি—সব ঠিকঠাকই চলছিল। ১ ফেব্রুয়ারি দু’জন আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে পৌঁছন।
সেখানেই হয় বিপদ। এজেন্ট পাওন (Pawan) আরও টাকা দাবি করে। যুবক-যুবতী রাজি না হতেই তাদের ফোন বন্ধ করে দিতে বলা হয়। পরদিন সকালে দু’জনকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন বাড়ির বেসমেন্টে। ধ্রুবকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরিবারের সামনে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ভিডিও কলে সেই নির্যাতন দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণ না পেলে ধ্রুবের কিডনি বিক্রি করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিল ওই এজেন্ট।
শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের তরফে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা—তার অর্ধেক ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency) দিয়ে—অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবুও আরও টাকা দাবি করতে থাকে দুষ্কৃতীরা। অসহায় পরিবার তখনই বিষয়টি জানান আনন্দের সাংসদ মিতেশ পটেলকে (MP Mitesh Patel)।
সাংসদ বিষয়টি জানালে তৎপর হয় বিদেশ মন্ত্রক। দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে (S Jaishankar) সরাসরি জানানো হয়। এরপর ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে ‘অপারেশন মহিসাগর’(Operation Mahisagar) নামে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত দু’জনকে খুঁজে বার করা হয় এবং উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতীয় দূতাবাসে।
দু’জন এখন ভারতীয় দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। দেশে ফেরানোর জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংসদ মিতেশ পটেল বলেন, “এ ধরনের শর্টকাট কোনওদিনই নিরাপদ নয়। যুবকদের অনুরোধ, এ পথে পা দেবেন না।”