অভিযোগ, এবার একটা ছেলে হোক, ইচ্ছে ছিল আজহারউদ্দিনের। সেই মতো পুত্র সন্তানের জন্য স্ত্রীর উপর চাপ দিচ্ছিলেন তিনি। এমনকি গর্ভপাত করানোর জন্যও জোর করা হচ্ছিল। কিন্তু ফারহাত তাতে রাজি হননি। এই অস্বীকৃতিই শেষ পর্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে বলে মনে করছে পুলিশ।

২৬ বছরের ফারহাত এবং তাঁর দুই মেয়ে, উমেরা (৮) ও আয়েশা (৬)
শেষ আপডেট: 4 April 2026 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে মনে হয়েছিল দুর্ঘটনা। সুইমিং পুলে পড়ে ডুবে মৃত্যু হয়েছে মা ও দুই মেয়ের (Telangana woman daughters murder case)। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে শিউরে ওঠার মতো সত্যি। তেলেঙ্গনার ওয়ারাঙ্গাল শহরে গর্ভবতী স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে খুনের (abortion pressure case India) অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে, আর তার নেপথ্যে রয়েছে পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষা (female child bias India crime)।
মৃতদের পরিচয় জানিয়েছে ২৬ বছরের ফারহাত এবং তাঁর দুই মেয়ে, উমেরা (৮) ও আয়েশা (৬)। পরিবারেরই একটি সুইমিং পুল ছিল ওয়ারাঙ্গাল-খাম্মাম জাতীয় সড়কের কাছে, যা ভাড়া দিয়েই তাঁদের সংসার চলত।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
বুধবার রাতে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে ফারহাত ও তাঁর দুই মেয়ে পুলের কাছে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁদের জলে ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে এমজিএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রথমে ফারহাতের স্বামী আজহারউদ্দিন পুলিশকে জানান, পা পিছলে জলে পড়ে গিয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসে অন্য ছবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন ফারহাত ও আজহারউদ্দিন। তাঁদের দুই মেয়ে ছিল। ফারহাত ফের গর্ভবতী হয়েছিলেন এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, গর্ভস্থ সন্তানটিও কন্যা হতে পারে - এই তথ্য নিয়েই দুজনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়েছিল।
অভিযোগ, এবার একটা ছেলে হোক, ইচ্ছে ছিল আজহারউদ্দিনের। সেই মতো পুত্র সন্তানের জন্য স্ত্রীর উপর চাপ দিচ্ছিলেন তিনি। এমনকি গর্ভপাত করানোর জন্যও জোর করা হচ্ছিল। কিন্তু ফারহাত তাতে রাজি হননি। এই অস্বীকৃতিই শেষ পর্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে বলে মনে করছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই স্ত্রী ও দুই মেয়েকে সুইমিং পুলে নিয়ে গিয়ে ঠেলে ফেলে দেন আজহারউদ্দিন।
সিসিটিভি বন্ধ, ফোন লোকেশনেই ফাঁস
তদন্তে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার সময় আজহারউদ্দিনের ফোন লোকেশন পুলের কাছেই ছিল। একই সঙ্গে দেখা যায়, ঘটনার আগে পুল এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, জেরার সময় আজহারউদ্দিনের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়, যা পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে খুঁজতে বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ।
বাবার অভিযোগেই মোড় ঘোরে তদন্তের
ফারহাতের বাবা, আলি প্রথম থেকেই এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে চাননি। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান, গত কয়েকদিন ধরেই মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে অশান্তি চলছিল, মূলত সন্তান ও গর্ভাবস্থা নিয়ে।
ফারহাতের বাবার কথায়, “আমার মেয়ে অনেকদিন ধরে চাপের মধ্যে ছিল। এটা দুর্ঘটনা বলে আমরা বিশ্বাস করি না।”
পরিবারের সাফ দাবি, আজহারউদ্দিন কোনওভাবেই আরেকটি কন্যাসন্তান চাইছিলেন না এবং বারবার গর্ভপাতের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তাই তাঁদের মেয়ের খুনের জন্য কড়া শাস্তি চেয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন তাঁরা।