জানা গেছে, শুধু দিল্লি থেকেই প্রায় ১০ হাজার নাগরিক এই প্রতিবাদে অংশ নেন। ছাত্রছাত্রী, গৃহবধূ, কর্মরত মানুষ, প্রাণীপ্রেমী- সকলেই তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিজের হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 30 November 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেল স্টেশন, স্কুল, খেলার মাঠ, হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরাতেই হবে, কয়েক সপ্তাহ আগেই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এরপরই পথকুকুরদের নিয়ে চিন্তায় বহুজন। এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court on Stray Dogs) সেই নির্দেশের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ হাতে-লেখা চিঠি পাঠালেন প্রধান বিচারপতির কাছে।
জানা গেছে, শুধু দিল্লি থেকেই প্রায় ১০ হাজার নাগরিক এই প্রতিবাদে অংশ নেন। ছাত্রছাত্রী, গৃহবধূ, কর্মরত মানুষ, প্রাণীপ্রেমী- সকলেই তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিজের হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে। তাদের দাবি, শীর্ষ আদালত যেন ৭ নভেম্বরের নির্দেশটি পুনর্বিবেচনা করে (Animal Lovers letters to CJI)।
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কুকুর কামড়ানোর ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে একটি স্বপ্রণোদিত মামলায় ৭ ৭ নভেম্বর নির্দেশ দেয়, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বাস ডিপো, রেল স্টেশন থেকে অবিলম্বে সমস্ত পথকুকুরদের সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হোক। নির্বীজকরণ ও টিকাকরণের পরও তাদের আগের জায়গায় আর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানায় আদালত।
এতেই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। কারণ, দেশের বর্তমান আইন ABC Rules, 2023 অনুযায়ী নির্বীজকরণ ও টিকা দেওয়ার পরে পথকুকুরদের আবার তাদের পরিচিত এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। এই নিয়ম মানার জন্য দেশের বহু শহরেই বছরের পর বছর কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ সেই নীতির বিরুদ্ধে বলে মনে করছেন প্রাণী অধিকার কর্মীরা।
তাদের দাবি, দেশে এত কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত ও মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র নেই। ফলে হঠাৎ করে তাদের এলাকা থেকে তুলে নেওয়া হলে মারাত্মক কষ্ট হবে। তাছাড়া, কোনও এলাকায় পরিচিত, টিকাপ্রাপ্ত কুকুর না থাকলে সেই জায়গায় দ্রুত নতুন, অপ্রশিক্ষিত ও সম্ভাব্য আগ্রাসী কুকুর ঢুকে পড়তে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশজুড়ে এই প্রতিবাদে মানুষের অংশগ্রহণও ছিল নজরকাড়া। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী- সর্বত্র থেকে নাগরিকেরা পোস্টাল রিসিট শেয়ার করেছেন, যা প্রমাণ করে পথকুকুরদের প্রতি মানুষের সহানুভূতি কতটা গভীর।
পশুপ্রেমীদের একটাই অনুরোধ, ৭ নভেম্বরের নির্দেশ স্থগিত রাখা, পুনর্বিবেচনা করা এবং বিদ্যমান ABC নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক। নির্বীজকরণ, টিকাকরণ, নির্দিষ্ট ফিডিং জোন তৈরির মতো বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক পদ্ধতিই দীর্ঘমেয়াদে সমাধান আনতে পারে বলে মত দিয়েছেন অধিকাংশ নাগরিক ও কর্মী।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে (Delhi Stray Dogs Incident) একের পর এক পথকুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গত অগস্ট মাসে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। পথকুকুরদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের নির্বীজকরণ ও টিকাকরণে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
একবার পথকুকুরদের স্কুল, খেলার মাঠ, হাসপাতাল চত্বর বা সরকারি ভবন চত্বর এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তারা ঢোকার চেষ্টা করছে কিনা সেই বিষয়টিও প্রশাসনকে নজরে রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।