ছাত্রীটি এই মর্মে কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে গত ১ জুলাই লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন। সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
.jpg.webp)
কলেজেই গায়ে আগুন দিলেন তরুণী
শেষ আপডেট: 12 July 2025 21:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনের পর দিন অধ্যাপকের যৌন হেনস্থার শিকার (Harassed by her head of department)! কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শেষপর্যন্ত এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে প্রকাশ্যে কলেজ চত্বরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক ছাত্রী। ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজের এই ঘটনা ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে (Odisha College Incident)। তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন আরও এক ছাত্র। দু'জনেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুবনেশ্বরের এইমসে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে। নির্যাতিতা ওই কলেজের ইন্টিগ্রেটেড বি.এড কোর্সের ছাত্রী। অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে একাধিকবার অশালীন প্রস্তাব দেন তাঁর বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সমীর কুমার সাহু, যা সরাসরি যৌন হেনস্থার (Sexual Assault) পর্যায়ে পড়ে। এমনকি প্রস্তাবে রাজি না হলে ভবিষ্যৎ খারাপ করে দেওয়ার হুমকিও দেন (Threatened to destroy her future)।
ছাত্রীটি এই মর্মে কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে গত ১ জুলাই লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন। সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ, এরফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ছাত্রীটি।
শনিবার এই ঘটনার বিরুদ্ধে তরুণী কলেজ গেটে সহপাঠীদের সঙ্গেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আচমকাই তিনি দৌড়ে গিয়ে অধ্যক্ষের অফিসের কাছে গিয়ে নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন (Set herself ablaze)। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে, দেখা যাচ্ছে- আগুনে জ্বলতে থাকা ছাত্রীটিকে বাঁচাতে গিয়ে আরেক ছাত্রও অগ্নিদগ্ধ হন। পরে কলেজের কর্মীরাই আগুন নেভান এবং তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তরুণীর দেহের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে এবং ওই ছাত্রের দেহের ৭০ শতাংশ অংশ পুড়েছে বলে জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে।
কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছিল এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ছাত্রীর বক্তব্য ছিল, তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন। সেদিনই সমীর কুমার সাহুকে অফিসে ডেকে এনে দু’জনকে মুখোমুখি বসানো হয়। সাহু অভিযোগ অস্বীকার করলেও ছাত্রীটি নিজের অভিযোগে অটল ছিলেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়ায়। প্রতিবাদ শুরু হয় কলেজ চত্বরে। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর জানায়, অভিযুক্ত অধ্যাপক সমীর সাহুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী সূর্যবংশী সুরজ।