পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৯ জুলাই কর্নাটকের গোকর্ণা থানার পুলিশ রামতীর্থ পাহাড় এলাকায় টহল দিচ্ছিল। পাহাড়ি অঞ্চলের একটি দুর্গম গুহার কাছ থেকে কিছু আওয়াজ শুনতে পেয়ে সতর্ক হয় পুলিশ।

কর্নাটকে উদ্ধার রাশিয়ান মহিলা
শেষ আপডেট: 12 July 2025 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনের পর দিন এক দুর্গম পাহাড়ে গুহার ভিতরেই থাকছিলেন রাশিয়ান মহিলা ও তাঁর দুই কন্যা সন্তান (Russian Woman Found Living In Cave)। খোঁজ পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে। কী কারণে তাঁরা সেই বিপজ্জনক জায়গায় ছিলেন, এনিয়ে পুলিশের হাতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কর্ণাটকের (Karnataka Cave) গোকর্ণা এলাকায় পাহাড়ের গভীর জঙ্গলের এক গুহা থেকে উদ্ধার করা হল এক বিদেশিনী ও তাঁর দুই ছোট মেয়েকে। জানা গিয়েছে, ওই রাশিয়ান নাগরিক (Russian Citizen) ধ্যান ও নিঃসঙ্গতার খোঁজে গুহায় থাকছিলেন। তবে সেই জায়গা বিপজ্জনক হওয়ায় পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে আনে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৯ জুলাই কর্নাটকের গোকর্ণা থানার পুলিশ রামতীর্থ পাহাড় এলাকায় টহল দিচ্ছিল। পাহাড়ি অঞ্চলের একটি দুর্গম গুহার কাছ থেকে কিছু আওয়াজ শুনতে পেয়ে সতর্ক হয় পুলিশ। এগিয়ে যেতেই দেখেন সেখানে নিনা কুটিনা (৪০) নামের এক মহিলা ও তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। শিশুদের একজনের বয়স ৬ এবং আরেক জনের ৪ বছর বয়স।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই মহিলা জানান, তিনি গোয়া থেকে গোকর্ণায় এসেছেন আধ্যাত্মিক চর্চার উদ্দেশে। শান্ত পরিবেশে ধ্যান করার জন্যই তিনি এই গুহায় এসে থাকছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একবার ভয়াবহ ভূমিধ্বসে রামতীর্থ পাহাড় এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেখানে আবার বিষধর সাপ ও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও আছে। ফলে শিশুদের নিয়ে সেখানে থাকাটা অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও বন দফতরের আধিকারিকরা প্রথমে ওই মহিলাকে পাহাড়ি গুহায় থাকার ঝুঁকি সম্পর্কে বোঝান। পরে তিনজনকেই নিরাপদভাবে সেখান থেকে নামিয়ে আনা হয়। নিনার অনুরোধেই পরে তাঁদের কুমটা তালুকের ব্যাংকিকোডলা গ্রামের এক মহিলা সন্ন্যাসিনীর আশ্রমে নিয়ে যাওয়া হয়। আশ্রমটি পরিচালনা করেন ৮০ বছর বয়সি যোগরত্না সরস্বতী।
পুলিশ যখন নিনার পাসপোর্ট (Passport) ও ভিসা (Visa) সম্পর্কিত নথি দেখতে চায়, তখন প্রথমে তিনি কিছু বলতে চাননি। পরে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে গুহা থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর নথিপত্র। তাতে দেখা যায়, তিনি একবার ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বিজনেস ভিসায়, যার মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। পরে ২০১৮ সালে নেপাল হয়ে আবার ভারতে প্রবেশ করেন। তারপর থেকে তিনি কার্যত অবৈধভাবেই ভারতে থাকছিলেন।
নিনা ও তাঁর দুই সন্তানকে করওয়ারে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের পরিচালিত সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। উত্তর কন্নড় জেলার পুলিশ জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (FRRO) সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য তাঁদের বেঙ্গালুরুতে এফআরআরও দফতরে নিয়ে যাওয়া হবে।