বেঞ্চ পরিষ্কার করে দেয়, গান্ধীর বক্তব্য কেবল দেশার্থে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গেই উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য কোনও উদ্দেশ্যে নয়।

শেষ আপডেট: 11 February 2026 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সুপ্রিম কোর্টে সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk Supreme Court case) মামলার শুনানিতে হঠাৎই উঠে এল জাতির জনকের নাম। আর তাতেই তৈরি হল তীব্র বিতর্ক। আদালতে মহাত্মা গান্ধীর (Gandhi comparison Supreme Court) বক্তব্য উল্লেখ করা নিয়ে সরব হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় সরকার (Government of India)।
শুনানির এক পর্যায়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্টভাবে সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করেন, লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) যেন কোনওভাবেই মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা না করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) প্রতিরোধমূলক হেফাজতে থাকা ওয়াংচুককে ঘিরে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যা সম্পূর্ণভাবে দেশবিরোধী, তাকে মহিমান্বিত করা উচিত নয়।”
তবে বেঞ্চ পরিষ্কার করে দেয়, গান্ধীর বক্তব্য কেবল দেশার্থে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গেই উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য কোনও উদ্দেশ্যে নয়।
ঠিক কী হয়েছিল শুনানি চলাকালীন?
এর আগে শুনানির সময় সরকার ওয়াংচুকের বক্তব্য এবং তাঁর প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে যে যুক্তি তুলে ধরে, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে আদালত মহাত্মা গান্ধীর শেষ অনশন-সংক্রান্ত ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে আনে। আদালত জোর দিয়ে জানায়, কোনও বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে গেলে সেটিকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে পড়তে হবে, বেছে নেওয়া কয়েকটি লাইন তুলে ধরে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো চলবে না।
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল নটরাজ আদালতে দাবি করেন, ওয়াংচুকের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে নেপালের মতো সহিংস আন্দোলন ভারতেও ঘটতে পারে। কিন্তু বেঞ্চ এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালতের সরাসরি প্রশ্ন, “তিনি ঠিক কোথায় এটা বলেছেন? আমাদের দেখান।”
সরকারি পক্ষ থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনানো হলে আদালত জানায়, পুরো বক্তব্য নথিভুক্ত করতে হবে। বেঞ্চের সাফ মন্তব্য, “পুরোটা পড়ুন। একটা বাক্য আলাদা করে তুলে ধরা যায় না।”
আদালত লক্ষ্য করে, ওয়াংচুক নিজেই সহিংস পদ্ধতিকে ‘উদ্বেগজনক’ এবং অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সেই পূর্ণ প্রেক্ষাপটেই বোঝা জরুরি।
“কিছু মানুষ শান্তিপূর্ণ 'গান্ধী পথ' ছেড়ে সরে যাচ্ছে, এটা উদ্বেগজনক”, এই লাইন উদ্ধৃত করে বেঞ্চ জানায়, ওয়াংচুকের বক্তব্যের মূল সুর ছিল গান্ধীবাদী নীতিতে অনড় থাকার আহ্বান এবং সহিংসতার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ।
তবে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য, ওয়াংচুকের আচরণকে গান্ধীবাদী বলে দেখানোর জন্য কোনও একটি বাক্য তুলে ধরা ঠিক নয়। তাঁর অভিযোগ, পরিবেশ রক্ষার নাম করে ওয়াংচুক এমন অনশন কর্মসূচি সংগঠিত করেছেন, যা জনশৃঙ্খলা ব্যাহত করেছে।
শুনানির সময় বেঞ্চ আবার মহাত্মা গান্ধীর শেষ অনশন-সংক্রান্ত ভাষণের উল্লেখ করে জানায়, গান্ধী শান্তিপূর্ণ মৃত্যুর কথা বলেছিলেন এবং তাঁর হত্যার পর দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর কিছু পরেই আদালতে প্রবেশ করে এই প্রসঙ্গে আপত্তি তোলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য, “যা সম্পূর্ণ দেশবিরোধী, তাকে মহিমান্বিত করা উচিত নয়। জাতির জনকের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনের শিরোনাম যেন না হয় যে এই আদালত সোনম ওয়াংচুককে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেছে।”
ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কারণ দেখিয়ে মুক্তির দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, অসুস্থতার বিষয়টি “সোশ্যাল মিডিয়ার তৈরি এক আবরণ” মাত্র। এতে আদালতের পাল্টা প্রশ্ন, “আপনারা এত ছোট বিষয়কে বড় করে দেখাচ্ছেন কেন? আমাদের কি প্রশ্ন করাও উচিত নয়?” জবাবে মেহতা বলেন, “আমি তা বলছি না।”
গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছিল।
কিন্তু বুধবার আদালতে কেন্দ্র জানায়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুযায়ী ওয়াংচুক শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। সেই কারণে স্বাস্থ্যগত ভিত্তিতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলেই আদালতকে জানানো হয়।