সরকারের দাবি, ওয়াংচুকের বক্তৃতাগুলি দেশবিরোধী মনোভাব (Anti National Mentality) তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে লাদাখের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে, যেখানকার অবস্থান চিন ও পাকিস্তানের সীমান্তের কাছে।

সোনম ওয়াংচুক
শেষ আপডেট: 3 February 2026 08:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলবন্দি সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গুরুতর অভিযোগ তুলল কেন্দ্র। সোমবার শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং লাদাখ প্রশাসনের দাবি, ওয়াংচুক ইচ্ছাকৃতভাবে লাদাখের তরুণ প্রজন্মকে উস্কানি দিচ্ছিলেন, নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ব্যাপক আন্দোলন গড়ার উদ্দেশে (Nepal-Like Gen Z Protests)। তাঁর বক্তব্যে ‘আরব বসন্ত’-র (Arab Springs) মতো সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথাও উঠে আসে, যা অতীতে পশ্চিমী দুনিয়ার একাধিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) নিখুঁতভাবে ভাষণ সাজিয়ে জেন-জিদের (GEN Z) মনে সরকারি বিরোধী মনোভাব সক্রিয় করতে চাইছিলেন। তিনি মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্য উদ্ধৃত করলেও আসল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। মেহতার অভিযোগ, ওয়াংচুক ইচ্ছাকৃতভাবে লাদাখের মানুষদের ‘আমরা’ এবং কেন্দ্রকে ‘ওরা’ হিসেবে আলাদা করে দেখান এবং গণভোটের মতো দাবিও তোলেন, যা অতীতে কাশ্মীরে শোনা গিয়েছিল।
এই মামলাটি দায়ের করেছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী, গীতাঞ্জলি জে. আংমো (Gitanjali J Angmo)। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (NSA) নামে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, NSA অনুযায়ী কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখতে পারে, যদি মনে হয় তিনি দেশের প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষতিকর কোনও কাজ করতে পারেন।
সরকারের দাবি, ওয়াংচুকের বক্তৃতাগুলি দেশবিরোধী মনোভাব (Anti National Mentality) তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে লাদাখের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে, যেখানকার অবস্থান চিন ও পাকিস্তানের সীমান্তের কাছে। তাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াংচুকের ভিডিও ও রিপোর্ট দেখে তাঁকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের স্ত্রী দাবি করেছেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো FIR, অস্পষ্ট অভিযোগ এবং বেছে নেওয়া কিছু ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বলের বক্তব্য, পুলিশ অন্য সূত্র থেকে পাওয়া অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে সোনম ওয়াংচুককে আটক করেছে।
ওয়াংচুক জেলে থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনও সরকারের পতন চাননি। তাঁর কথায়, 'একজন নাগরিক হিসেবে সরকারের সমালোচনা করা ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো সকলের অধিকার।'
গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর সোনম ওয়াংচুককে আটক করা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর লেহ–তে সহিংস আন্দোলনে চারজন নিহত ও ৯০ জন আহত হওয়ার পর (Leh Protest)। সরকার দাবি করে, ওয়াংচুক সেই আন্দোলন উস্কে দিয়েছিলেন। তবে তাঁর স্ত্রী বলেন, ওয়াংচুক নিজেই সেই ভয়াবহ ঘটনার নিন্দা করেছিলেন। মামলার শুনানি শেষ হয়নি, মঙ্গলবার অর্থাৎ আজই পরবর্তী শুনানি রয়েছে।