গীতাঞ্জলি আদালতে জানিয়েছেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়াংচুককে গ্রেফতার করার পর থেকে তাঁকে একবারও দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

সোনম ওয়াংচুক এবং গীতাঞ্জলি আঙমো
শেষ আপডেট: 8 October 2025 19:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখের (Ladakh) শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙমো (Gitanjali Angmo) জানিয়েছেন, তিনি স্বামীকে আটক করা সংক্রান্ত নথি পেয়েছেন এবং তা আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাতে আইনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
বুধবার গীতাঞ্জলি বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক, সোনমের মানসিক জোর (Mental State) অটুট রয়েছে এবং লক্ষ্যেও তিনি অবিচল। পাশাপাশি তিনি এও জানান, আইনি পরামর্শদাতার সঙ্গে বারংবার আলোচনা করছেন তাঁরা যাতে দ্রুত তাঁর স্বামীকে বাইরে আনা যায়।
এর আগে, গীতাঞ্জলি আঙমো সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) একটি রিট পিটিশন (Rit Pitition) দায়ের করেছেন, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) অনুযায়ী ওয়াংচুকের আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে এবং তাঁর তৎক্ষণাৎ মুক্তির দাবি করা হয়েছে। ওই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৪ অক্টোবর। সেই মামলায় ইতিমধ্যে সোনমকে আটক করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টও।
গীতাঞ্জলি আদালতে জানিয়েছেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়াংচুককে গ্রেফতার (Arrest) করার পর থেকে তাঁকে একবারও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, গ্রেফতারির কারণ সম্পর্কেও পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। এই আটককে তিনি সংবিধানের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবৈধ বলেছেন।
আদালতে কপিল সিব্বল গীতাঞ্জলির পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর যুক্তি, “ডিটেনশন নোটিসের কপি না পেলে আটক করার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব নয়।” অন্য দিকে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, আটক করার কারণ ইতিমধ্যেই ওয়াংচুককে জানানো হয়েছে এবং তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারজয়ী সোনম ওয়াংচুককে গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর অধীনে গ্রেফতার করা হয়। লেহ-তে গত ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়, সেই ঘটনায় তাঁকে উস্কানির অভিযোগে আটক করেছে প্রশাসন।
গত শনিবার যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে দেখতে যান তাঁর দাদা ও আইনজীবী। পরে জানানো হয়, সোনম শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন এবং সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁদের উদ্বেগ ও প্রার্থনার জন্য।
ওয়াংচুক নিজেও বার্তা দেন, “যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। আহত ও আটক ব্যক্তিদের জন্য আমার প্রার্থনা রইল। আমাদের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। সেই তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি জেলে থাকতে প্রস্তুত।”