পুলিশ জানিয়েছে, তনুর স্বামী অরুণ, শ্বশুর-শাশুড়ি ও আরও এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 21 June 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার ফরিদাবাদে শুক্রবার একটি আবাসিক এলাকার গলির ১০ ফুট গভীর খাল থেকে এক মহিলার পচাগলা দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কংক্রিটের ঢাকনা তুলে যখন গর্ত খোলা হয়, তার মধ্যেই পাওয়া যায় ২৪ বছরের তনুর দেহ।
উত্তরপ্রদেশের শিখোহাবাদের বাসিন্দা তনুর বিয়ে হয়েছিল ফরিদাবাদের রোশন নগরের বাসিন্দা অরুণের সঙ্গে। বিয়ে দু’বছর হতে না হতেই এই ঘটনায় শিউরে উঠেছেন প্রতিবেশী-সহ স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, তনুর স্বামী অরুণ, শ্বশুর, শাশুড়ি ও আরও এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শ্বশুরবাড়ির বাড়ির পাশের একটি গলির কংক্রিটের নিচ থেকে তনুর দেহ পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রায় দু’মাস আগে ওই এলাকায় আশপাশের বাড়ি থেকে জল বার করার জন্য খাল নির্মাণের নামে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছিল।
সকাল আটটার দিকে দেহ খুঁড়ে বার করা হয় এবং তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে মৃত্যুর সময় ও কারণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তনুর বোন প্রীতি দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে বিয়ের পর থেকেই তাঁর দিদি মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার। অরুণ ও তার বাবা-মা সোনার গয়না, টাকা পণ হিসেবে দাবি করেছিলেন। প্রীতি জানিয়েছেন, নানা সহযোগিতা সত্ত্বেও তাঁদের ওপর থেকে চাপ কমেনি।
তনুর বাড়ির লোক জানিয়েছেন, বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তনু তাঁদের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কারণ বরাবরই তাঁর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা হত না। প্রায় এক বছর তনু তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন। ফিরে যাওয়ার পর আবার নির্যাতন শুরু হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকরা তাঁদের সঙ্গে তনুকে যোগাযোগ করতে দিত না, এমনকী ফোনেও কথা বলা বারণ ছিল।
প্রীতি আর জানিয়েছেন, ২৩ এপ্রিল ওরা জানায় তনু বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু সন্দেহ আরও বাড়ে, কারণ ৯ এপ্রিল তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলেও ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার’ অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তনুর শ্বশুর ২০২৫-এর এপ্রিল মাসে ‘প্রপার ড্রেনেজ সিস্টেম’ না থাকার কথা তুলে খাল খোঁড়েন। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘খাল কাটার এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তনুকে আর কেউ দেখেনি। অনেকেই সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন যে, কিছু সমস্যা রয়েছে এখানে।
ফরিদাবাদের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘প্রায় সপ্তাহ আগে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই থেকে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চারজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’