উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে বিজেপির বহিষ্কৃত বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিনের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।

শেষ আপডেট: 29 December 2025 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে (Unnao Rape Case) বিজেপির বহিষ্কৃত বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের (Kuldeep Singh Sengar) জামিনের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI plea against the Delhi High Court)। সেই মামলার শুনানি ছিল সোমবার।
এদিন শীর্ষ আদালত জানায়, কুলদীপ সেঙ্গার আরও একটি পৃথক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ভোগ করছেন, তাই এই পরিস্থিতিতে তাঁকে এমন কোনও 'স্বস্তি' দেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিজেপির বহিষ্কৃত বিধায়ককে নোটিস পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি সিবিআইয়ের এই আপত্তির বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে পারেন।
এদিকে এদিনের শুনানি চলাকালীন ধর্ষণকাণ্ডে দোষী বিজেপির বহিষ্কৃত বিধায়ক (Expelled BJP leader) কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিনের পক্ষে সওয়াল করে বিতর্কে জড়ালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু (Former Supreme Court Judge Markandey Katju)।
প্রাক্তন বিচারপতির যুক্তি, কুলদীপ সেঙ্গার ইতিমধ্যেই ৮ বছরের বেশি জেল খেটেছেন। উপরন্তু, দিল্লি হাইকোর্টের যে রায় নিয়ে বিতর্ক, সেটি কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, এটা কেবল অন্তর্বর্তী নির্দেশ। তাই এখনই বলা যাবে না সেঙ্গার দোষী কি না বা অভিযোগকারিণী তখন নাবালিকা ছিলেন কি না। হাইকোর্ট শুধু একটি বিষয় খতিয়ে দেখেছে, সেঙ্গার কি পকসো আইনের (POCSO Act) মতে ‘সরকারি কর্মচারী’ কিনা।
এরপর কাটজু আরও একটি প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের সামনে রাখে। তাঁর কথায়, ভারতে মামলার নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লেগে যায়। যদি ধরেও নেওয়া হয় চূড়ান্ত রায় আসতে আরও দশ বছর লাগে, আর পরে দেখা যায় ট্রায়াল কোর্টের রায় ভুল ছিল, তাহলে মোট ১৮ বছর জেলে কাটানোর ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
কুলদীপ সেঙ্গারের জামিনের বিরোধিতায় সিবিআইয়ের আপত্তিও শুনেছে শীর্ষ আদালত। এরপরই জামিনের রায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
নির্যাতিতার আইনজীবী জানিয়েছেন, "আমি সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানাই। নির্যাতিতাও তাঁর কৃতজ্ঞতা জানাতে চায়। সুপ্রিম কোর্ট নীচের আদালতকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—অভিযুক্তকে কোনও অবস্থাতেই জেল থেকে ছাড়া যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া ছাড়ের রায় স্থগিত করা হয়েছে। বিরোধীপক্ষকে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে, আর ততদিন পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই তিনি মুক্তি পাবেন না। এটাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ।
উন্নাও ধর্ষণকাণ্ড
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। সে সময় উন্নাওয়ের বাঙ্গেরমউ কেন্দ্রের চারবারের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার ও তাঁর সহযোগী শশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনে এক নাবালিকা। অভিযোগ ওঠার পর ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল কুলদীপকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিজেপি।
তদন্তে উঠে আসে অপহরণ, ধর্ষণ, ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ। আদালত পকসো আইন-সহ (POCSO) একাধিক ধারায় চার্জ গঠন করে। শেষ পর্যন্ত কুলদীপকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় দিল্লির আদালত।
গত মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট সেই যাবজ্জীবন সাজা মকুব করে দেন এবং ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে বিধায়কের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপরই দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন নির্যাতিতা, তাঁর মা এবং মানবাধিকার কর্মীরা। নির্যাতিতার অভিযোগ, “কুলদীপ ছাড়া পেলে আমরা নিরাপদ নই। তিনি আমার বাবাকে খুন করিয়েছেন। আমাদের প্রাণহানির আশঙ্কা আছে।” তাই তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্তও জানান।
দেশের বিভিন্ন স্তরে এই জামিন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। ঠিক সেই সময়েই সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে জামিন বাতিলের দাবি জানায়। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এখন হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের রায় আপাতত কার্যকর থাকছে না এবং মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর।