ঘটনাটিতে রহস্যের পরত বাড়তে থাকায় তা রাজনৈতিক রংও নিতে শুরু করেছে।

শেষ আপডেট: 29 January 2026 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম রাজস্থানের পরিচিত ধর্মীয় কাহিনীকার সাধ্বী প্রেম বাইসার মৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন (Sadhvi Prem Baisa mysterious death)। ঘটনাটিতে রহস্যের পরত বাড়তে থাকায় তা রাজনৈতিক রংও নিতে শুরু করেছে। আরএলপি নেতা ও জাঠ সমাজের প্রভাবশালী মুখ হনুমান বেনিওয়াল ইতিমধ্যেই এই ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন (Hanuman Beniwal CBI probe)।
বুধবার সন্ধ্যায় বোরানাডা আশ্রম থেকে সাধ্বীকে জোধপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা বীরম নাথ এবং আর এক সহযোগী। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে 'মৃত' বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রবীণ জৈন জানান, সাধ্বীকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। ডা. জৈনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধ্বীর বাবা, যিনি তাঁর গুরুও, জানান, জ্বর থাকায় আশ্রমে এক কম্পাউন্ডারকে ডাকা হয়েছিল। সেই কম্পাউন্ডার একটি ইনজেকশন দেন, যার পরেই সাধ্বী অচেতন হয়ে পড়েন।
চিকিৎসক আরও জানান, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে তিনি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বীরম নাথ সেই প্রস্তাব নাকচ করে নিজের গাড়িতেই দেহ নিয়ে চলে যান।
এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীরম নাথ বলেন, “অনেক দিন ধরেই তাঁর সর্দি-কাশি ছিল। সেই কারণে আশ্রমে কম্পাউন্ডারকে ডাকা হয়। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কম্পাউন্ডারকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এবং রাজস্থানের ডিজিপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে হনুমান বেনিওয়াল বলেন, “সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে প্রেম বাইসার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত।” লোকসভা সাংসদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট
সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। সাধ্বীর মৃত্যুর প্রায় চার ঘণ্টা পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করা হয়।
পোস্টে দেখা যায়, তিনি অনুসারীদের উদ্দেশে প্রণাম জানাচ্ছেন। ক্যাপশনে লেখা ছিল, “সনাতন ধর্ম প্রচারের জন্য আমি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটিয়েছি... সারা জীবন আদি জগদগুরু শংকরাচার্য, বিশ্বখ্যাত যোগগুরু এবং বহু সাধু-সন্তের আশীর্বাদ পেয়েছি। আমি আদি গুরু শংকরাচার্য এবং দেশের বহু সাধু-সন্তকে চিঠি লিখে অগ্নিপরীক্ষার আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকৃতির বিধান কী ছিল? আমি এই পৃথিবীকে চিরবিদায় জানাচ্ছি। ঈশ্বর ও সাধু-সন্তদের উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। জীবিত অবস্থায় না হলে, মৃত্যুর পরে আমি ন্যায়বিচার অবশ্যই পাব।”
বীরম নাথ এই প্রসঙ্গে জানান, পোস্টটি সাধ্বীর মোবাইল থেকেই করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “একজন সহগুরু মহারাজ এই বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন।” তিনিও ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন।
পুরনো ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক
গত বছর সাধ্বী প্রেম বাইসা এবং তাঁর বাবাকে ঘিরে একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে একটি ঘরে তাঁকে বাবাকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এক মহিলা ঘরে ঢুকে একটি কম্বল সরিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
সাধ্বী সেই সময় দাবি করেছিলেন, এটি বাবা-মেয়ের স্নেহের প্রকাশ ছাড়া কিছু নয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, সম্পর্ককে অপমান করার উদ্দেশ্যেই ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে একজনকে গ্রেফতারও করেছিল, যিনি ভিডিওটি ভাইরাল করেছিলেন।
এবার সেই পুরনো বিতর্কের প্রেক্ষাপটও নতুন করে সামনে আসছে। ইনজেকশনের পর অচেতন হয়ে পড়া, ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট - সব মিলিয়ে সাধ্বী প্রেম বাইসার মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তই এখন একমাত্র ভরসা, বলে মনে করছেন মানুষ।